২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯:১৮

তিনটি ইউনিয়নে একটি হেলথ হাব, তিনটি ওয়ার্ডে হবে একটি ওয়েলবিয়িং সেন্টার

বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল  © সংগৃহীত

চিকিৎসাসেবাকে পাঁচস্তরে ভাগ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এর অংশ হিসেবে প্রতি তিনটি ইউনিয়নে একটি হেলথ হাব এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে একটি করে ‘হেলথ ওয়েলবিয়িং সেন্টার’ স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। টেকনিশিয়ানরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘরে ঘরে যাবেন এবং রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।

আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) নওগাঁ সদর হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ইউনিয়নের অধীনে এখন নয়টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতি ৩টি ওয়ার্ডের জন্য ‘হেলথ ওয়েলবিয়িং সেন্টার’ নামে একটি করে একতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। আমরা এ বিষয়ে সবকিছু চূড়ান্ত করেছি। এভাবে প্রতি ইউনিয়নে ৩টি করে ‘হেলথ হাব’ থাকবে। সেখানে মিডওয়াইফ ও টেকনিশিয়ানরা দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, টেকনিশিয়ানরা প্রয়োজনীয় মেশিন নিয়ে ঘরে ঘরে যাবেন এবং রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। নারীদের প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণের পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি নারীদের শেখানো হবে, কীভাবে স্তন ক্যানসার ও জরায়ু ক্যানসারের টিউমার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ওয়ার্ড পর্যায় থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে রোগীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত রিপোর্ট পাঠানো হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকবেন। কোনো রোগীর চিকিৎসা যদি ওই চিকিৎসকের সক্ষমতার বাইরে হয়, তাহলে তিনি রোগীকে উপজেলা পর্যায়ে রেফার করবেন। উপজেলা পর্যায়েও যদি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে রোগীকে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে। জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সম্ভব না হলে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আমরা ৫০ এবং জেলা সদর হাসপাতালের জন্য ১০ শয্যা করে ডায়ালাইসিস সেন্টার প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছি। যাতে টারশিয়ারি লেভেলে রোগীদের ঢাকায় যেতে না হয়। ডিস্ট্রিক্ট লেভেলে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকবে। আমরা আশা করি ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন প্রতিদিন যদি ৩ রাউন্ডও করে, ১৮০টা রোগীকে ডায়ালাইসিস করতে পারবে। এটি স্থাপন করতে আমাদের আর ৩ মাসও সময় লাগবে না ইনশাল্লাহ, আমাদের মেশিন টেন্ডার হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা লেভেলে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করব। বিল্ডিংয়ের কাজ অলরেডি ডিপিপি হয়ে গেছে, টেন্ডারে চলে যাবে, বিল্ডিং হবে। শুধু ডায়ালাইসিস না, দোয়া করবেন আমাদের জন্য, আমরা ৫০ থেকে প্রথম ১০১ শয্যা ঘোষণা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১০১ থেকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট করে করছি আমরা। নতুনভাবে আবার ডিপিপি করে এটা একেবারেই টেন্ডার হয়ে যাবে। ১৫১ শয্যার ভেতরে ২৫টা সিট থাকবে মহিলাদের জন্য, মায়ের সেবার জন্য, যাতে আমাদের মেয়েদের কষ্ট না হয়। ২০টা সিট আমাদের শিশুদের জন্য আলাদা থাকবে। ফিজিওথেরাপির জন্য একটা মহিলা ওয়ার্ড থাকবে, একটা পুরুষ ওয়ার্ড থাকবে। দুইজন ডাক্তার থাকবে, মহিলাদের মহিলারা ফিজিওথেরাপি দেবে, পুরুষদের পুরুষরা ফিজিওথেরাপি দেবে।

নওগাঁ সদর হাসপাতাল পরিদর্শনের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি হাসপাতাল ঘুরে দেখেছি। কোনো জায়গা থেকে কোনো খারাপ রিপোর্ট পাইনি। রোগীরা জানিয়েছেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা ভালো সেবা পাচ্ছেন, ওষুধ পাচ্ছেন। ডাক্তার-নার্সদের ব্যবহার ভালো এবং খাবার-দাবারের মানও ভালো।

তিনি বলেন, তবে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ১০০ শয্যার হাসপাতালের বরাদ্দ অনুযায়ী খাবার পায়। আমরা খাবারের মান আরও উন্নত করার জন্য বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করার উদ্যোগ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, কিছুদিনের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের শয্যার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে এবং কোড নম্বর পরিবর্তন করা হবে।

হাসপাতালে কোনো অনিয়ম দেখেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি জায়গায় অনিয়ম পেয়েছি। হাসপাতালে স্যালাইন থাকা সত্ত্বেও একজন সিনিয়র নার্স রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলেছেন। টাকাটা আমি দিয়ে রোগীকে দিয়ে দিয়েছি। ওই নার্সের কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে এমপি সাহেবের কাছে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।