২১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১২

৬৫ কর্মদিবসে ৪৭ দিনই অনুপস্থিত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, গাড়ি ফেলে রেখে ভুয়া বিলের অভিযোগ

ডা. মোহাম্মদ আবুল মনজুর  © সংগৃহীত

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, গাড়ি ফেলে রেখে ভুয়া বিল এবং বাসা ভাড়া না দেখিয়ে কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে টাকা গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোহাম্মদ আবুল মনজুরের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মেলায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দায়ের করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

ডা. মোহাম্মদ আবুল মনজুর ৩৩তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। গত বছরের ১৮ জানুয়ারি তিনি নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএইচএফপিও হন। সম্প্রতি তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশও দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এতে সই করেছেন।

বিভাগীয় মামলার নথি অনুযায়ী, ডা. মোহাম্মদ আবুল মনজুরের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা, গাড়ি ব্যবহার না করে ফেলে রেখে নষ্ট করা ও প্রতিনিয়ত গাড়ির নামে ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাৎ করা, অবৈধভাবে বাসা ভাড়া না দেখিয়ে কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে টাকা গ্রহণ করা, বাসার বিদ্যুৎ বিলের টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি গত ২ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বায়োমেট্রিক হাজিরা পর্যালোচনার বরাত দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডা. মনজুর ওই বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৬৫ কর্মদিবসের মধ্যে ৪৭ দিনই অনুপস্থিত ছিলেন, যা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হয়। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়নি এবং মাঠ পর্যায়ে দুর্গম এলাকার সম্মানী বাবদ একই কর্মচারীকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতরণের তালিকায় দেখানো হলেও সম্মানী ও যাতায়াত ভাতা যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়নি, যা দুর্নীতি।

বিভাগীয় মামলার নথিতে বলা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় তা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) ও ৩(ঘ) মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অবস্থায় কেন আপনাকে এই বিধিমালার অধীনে উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, সে বিষয়ে এ নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে স্বাক্ষরকারীর নিকট কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। একইসঙ্গে, আপনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কিনা তাও লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

আরও পড়ুন: দেড় দশক ধরে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ১২০ বছরের পুরোনো ভবন, রোগীর সাথে চাপ অতিরিক্ত চিকিৎসকেরও

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোহাম্মদ আবুল মনজুর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এগুলো পরিকল্পিত এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি গত বছরের জানুয়ারিতে এখানে ইউএইচএফপিও পদে যোগ দেই। এরপর দুই মাস না পেরোতেই মার্চ-এপ্রিলের দিকে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়। এতদিন এখানে কাজ করলাম, এখন যদি কেউ অভিযোগ দেয়, তাইলে মেনে নেওয়া যায়। আমি কাজে যোগ দিতে না দিতেই এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে, অথচ কাজ বুঝে উঠতেও তো ৬ মাস লাগে।

বায়োমেট্রিক হাজিরায় অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের বায়োমেট্রিক মেশিনটি দীর্ঘদিন নষ্ট ছিল। পরে এটি ঠিক করা হলেও কখনও বিদ্যুৎ, কখনো ওয়াইফাই সমস্যার কারণে ঠিকঠাক ব্যবহার করা যেত না। তখন আমরা বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যে যার মতো বায়োমেট্রিক হাজিরা দিতাম। গত অক্টোবর-নভেম্বরে এসব সমস্যার সমাধান হয়। তবে এখনও অনেক সময় মেশিনে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হয় না। এ ছাড়া আমরা শুরু থেকেই হার্ডকপি মেইন্টেইন করতাম।

ডা. আবুল মনজুর অভিযোগ করে বলেন, মূলত একটি চক্র শুধু আমার বিরুদ্ধে না, এখানকার ইউএইচএফপিও বিরুদ্ধে এসব বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে আসছে। আমার আগের ইউএইচএফপিওদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। এখন কিছুদিন আগে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত হলো। ভাবলাম এগুলো শেষ হবে, এখন দেখছি আবার বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তবে আমি ভয় পাই না, কারণ আমি আমার জায়গায় সঠিক আছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার অফিসকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে এর প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আমাদের যা বলার, তা তদন্ত প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে।