২০ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪২

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত ঢামেক অধ্যাপকের চোখের আঘাত ‘গুরুতর’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

ঢামেক হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের চোখের আঘাত গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা  © সংগৃহীত

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের চোখের আঘাত গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল টিমের সদস্য ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিন ডা. আসাদুর রহমানের চিকিৎসায় ৫ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী মো. মনিরুজ্জামান। 

বোর্ডের অপর সদস্যরা হলেন—ঢামেক হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রবিউল ইসলাম, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (নিউরো অপথালমোলজি) ডা. শ্যামল কুমার সরকার ও সহযোগী অধ্যাপক (ভিট্রিও-রেটিনা) ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা এবং ঢামেকের অকুলোপ্লাস্টি সার্জন ডা. মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, হামলায় ডা. আসাদুর রহমানের চোখে গুরুতর আঘাত হয়েছে। সমস্যা দু চোখেই হয়েছে। আঘাতের ফলে তার চোখে রেটিনাল হেমোরেজ (চোখের রেটিনায় রক্তক্ষরণ), রেটিনাল কনটিউশন (রেটিনায় ভোঁতা আঘাত বা জখম) এবং কর্নিয়াল ইনজুরি (কর্নিয়ার আঘাত বা ক্ষত) হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগরে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ডা. আসাদুর রহমান। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথাক্স চোখ ও নাকে আঘাত করে। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চিকিৎসক বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত জড়িত থাকার অভিযোগে সজীব নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পল্টন থানা পুলিশ।

অন্য খবর: এমপিওভুক্ত শিক্ষকের চেয়ে খণ্ডকালীনের বেতন বেশি, বিসিএসআইআর স্কুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

জানা গেছে, ঘটনার দিন শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় ওঠার সময় তিনি এ হামলার শিকার হন। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বরাতে পুলিশ বলছে, বড় ভাইদের নির্দেশে এ হামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন সজীব। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে পুলিশের ভাষ্য।

অধ্যাপক আসাদুরকে সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী রাশেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শান্তিনগরে পপুলারের শাখার তিন নম্বর ভবনে ব্যক্তিগত চেম্বার শেষে অধ্যাপক আসাদুর অটোরিকশায় উঠেছিলেন মোহাম্মদপুরের বাসায় যেতে। এ সময় ৪-৫ দুর্বৃত্ত অটোরিকশা থামিয়ে দেশি অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। 

এতে তার মাথা, চোখ ও নাকে আঘাত লাগে। তবে কারা কী কারণে এ হামলা চালাল সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি রাশেদুল।