চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায় ড্যাব
দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
এ সময় হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি স্থাপন, জরুরি বিভাগে পুলিশি টহল এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি জানান ড্যাব নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, সহ-সভাপতি আবু কেনান ও মোস্তাক রহিম স্বপন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন এবং নাক কান ও গলা (ইএনটি) হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে একদল বহিরাগত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। এর আগে ১৫ আগস্ট মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন ও এক ওয়ার্ডবয়কে মারধর করা হয়।
এছাড়া চলতি বছর কুমিল্লা, রংপুর, শরীয়তপুর, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিন। বলেন, জেলা-উপজেলা হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চেম্বারেও প্রতিনিয়ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হামলা ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না।
ড্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় ৬০০ চিকিৎসকের ৫৫ শতাংশ কর্মজীবনে কোনো না কোনো সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ শারীরিক ও ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ মৌখিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ড্যাব নেতারা বলেন, রোগীর মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে চিকিৎসা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ তদন্তের জন্য কার্যকর আইনি কাঠামো থাকা প্রয়োজন।
তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং করোনাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে চিকিৎসকরা মানুষের পাশে ছিলেন। অথচ তাদের নিরাপত্তাই এখন হুমকির মুখে।