ডেঙ্গু মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন: বিএমইউ উপাচার্য
ডেঙ্গু মোকাবেলায় শুধু চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। বলেছেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে প্রতিরোধমূলক আচরণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডেঙ্গুর পরিবর্তিত পরিস্থিতি, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‘ডেঙ্গু ২০২৬: আপডেটস অন ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক এই সেমিনার আয়োজন করে সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটি।
এ সময় উপাচার্য বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও বাড়তে পারে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় শুধু চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে প্রতিরোধমূলক আচরণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির হিসেবে বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রোগীদের সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হলে রোগীর অবস্থায় অবনতি হতে পারে, তাই রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা প্রদান জরুরি।
এ সময় ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি, রোগের জটিলতা, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ রোগী শনাক্তকরণ এবং হাসপাতাল পর্যায়ে চিকিৎসা প্রদানের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম রাশেদ উল ইসলাম। তিনি ‘দ্য চেঞ্জিং ল্যান্ডস্কেপ অব ডেঙ্গু ইন বাংলাদেশ: সেরোটাইপ ডাইনামিক্স অ্যান্ড ডিজিস সাভারিটি’ বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদ মাহবুব মুর্শেদ ‘আপডেটেড ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বিএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছার সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল।
সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির সদস্য এবং বিএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের হার্ট ফেইলিউর ডিভিশনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ডিএমএম ফারুক ওসমানীরর সঞ্চালনায় সেমিনারে মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, ডেন্টাল ডিন অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আবু হেনা চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।