১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২

অফিসের এসি বাতাসে স্বস্তিতে অন্যরা, ঠান্ডায় কাঁপেন আপনি, শরীরে থাকতে পারে যে সমস্যা

অফিসের এসির বাসাতে অল্পতেই কাঁপুনি   © সংগৃহীত

বাইরে প্রচণ্ড গরম, তাই অফিসে ঢুকেই এসির ঠান্ডা বাতাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সহকর্মীরা। অথচ আপনার ক্ষেত্রে ছবিটা একেবারেই ভিন্ন—এসি রুমে ঢোকার কিছুক্ষণ পরই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে, শরীরে কাঁপুনি শুরু হয়। অন্যরা যেখানে আরামে কাজ করছেন, সেখানে আপনার মনে হচ্ছে যেন শীতকাল চলছে! এমনটা যদি প্রায়ই ঘটে, তাহলে শুধু ‘শীতকাতুরে’ বলে বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। অল্পতেই বেশি ঠান্ডা লাগা শরীরে কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

বাড়ি হোক কিংবা অফিস, একই পরিবেশে অন্যরা স্বাভাবিক থাকলেও আপনার যদি তুলনামূলক বেশি ঠান্ডা লাগে এবং বিষয়টি নিয়মিত ঘটে, তাহলে কারণটি খুঁজে দেখা দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সমস্যার একটি কারণ হতে পারে শরীরে আয়রনের ঘাটতি।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের অ্যানেসথেশিওলজিস্ট কুণাল সুদ বলছেন, রক্তে আয়রনের মাত্রা কমে গেলেও অকারণে বেশি ঠান্ডা লাগতে পারে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে নানা ধরনের শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঠান্ডা অনুভব করা।

আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর হিমোগ্লোবিন রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে। ফলে কোষ স্বাভাবিকভাবে তাপ উৎপাদন করতে পারে না। এ ছাড়া আয়রনের মাত্রা কমে গেলে বিপাকহারও কমতে পারে। এসব কারণেই অন্যদের তুলনায় বেশি ঠান্ডা লাগতে পারে।

তবে শুধু অল্পতেই ঠান্ডা লাগছে বলেই শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না, সেটিও খেয়াল করতে হবে। আয়রনের ঘাটতি হলে গুচ্ছ গুচ্ছ চুল পড়তে পারে, অল্পতেই ক্লান্তি চলে আসতে পারে এবং শরীর দুর্বল লাগতে পারে। আয়রনের মাত্রা অনেক কমে গেলে সামান্য কাজেই হাঁপ ধরার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তাই নিয়মিত বেশি ঠান্ডা লাগার পাশাপাশি এসব উপসর্গের কোনোটি দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে আয়রনের মাত্রা ঠিক আছে কি না, তা জানা যায়।

খাবারের মাধ্যমেও শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখা যায়। পালংশাক, মেটে, থোড়, মোচা, ডিমের কুসুম ও শিমজাতীয় খাবারে আয়রন রয়েছে। তাই এসব খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

শরীরে আয়রন ভালোভাবে শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন সিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে লেবু ও আমলকীর মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন।

সুতরাং, এসি ঘরে ঢুকলেই যদি অন্যদের তুলনায় আপনার বেশি ঠান্ডা লাগে, বারবার কাঁপুনি আসে কিংবা এর সঙ্গে ক্লান্তি, দুর্বলতা বা হাঁপ ধরার মতো সমস্যা থাকে, তাহলে নিজেকে শুধু ‘শীতকাতুরে’ ভেবে বসে থাকবেন না। শরীরের দেওয়া এই ছোট্ট সংকেতের পেছনে কোনো শারীরিক কারণ আছে কি না, তা খুঁজে দেখা জরুরি।