১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৭

বদলি আদেশ ‘রহস্যজনকভাবে’ স্থগিত, ‘টাকার খেলায়’ হৃদরোগ হাসপাতালে ফিরলেন ডা. মোরশেদ

ডা. মোরশেদ আলম  © টিডিসি সম্পাদিত

দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরূপ ভূমিকার অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) থাকা জাতীয় কিডনি রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (নিকডু) অধ্যাপক (বায়োকেমিস্ট্রি) ডা. মো. মোরশেদ আলম এবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) বদলি হয়েছেন। এর আগে ‘রহস্যজনকভাবে’ স্থগিত হয়েছে তার বগুড়ায় বদলির আদেশ। বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডা. মোরশেদ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটিতে পদায়ন বাগিয়েছেন।

ডা. মো. মোরশেদ আলম বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে তাকে ওএসডি করা হয়। এরই মধ্যে গত ২২ জুলাই প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাকে বগুড়ায় বদলি করা হয়েছিল। তবে সেই আদেশ কার্যকর হওয়ার আগেই মাত্র ৮ দিনের ব্যবধানে গত ৩০ জুলাই অদৃশ্য রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবে এনআইসিভিডির বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক পদে পদায়ন নেন তিনি।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা। ইতোমধ্যে তাকে যোগদান না করতে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। ডা. মোরশেদের আওয়ামী আমলের কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি এখন মুখে মুখে। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও মানববন্ধন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের ‘শান্তি মিছিলে’ও সরব উপস্থিতি ছিল তার।

চিকিৎসকদের অভিযোগ, জাতীয় কিডনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ডা. মোরশেদ আলম নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ সংস্কারের নামে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় তিনি সমালোচিত হন। স্পর্শকাতর এই খাতে 'বদলি বাণিজ্য' ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন চিকিৎসকরা।

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের অভিযোগ, ডা. মোরশেদ আলমকে এনআইসিভিডিতে পদায়নের জন্য প্রভাবশালী একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তদবির ছিল এবং তিনিই এতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ওই বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কর্তা ব্যক্তিদের চাপ প্রয়োগ এবং বারবার অনুরোধ করেন।

এনআইসিভিডি, নিকডু ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (এনআইএমএইচ) শাখা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ডা. মোরশেদ আলম বিগত সরকারের আমলে নানা সুবিধা ভোগ করেছেন। তিনি একেবারে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবেই কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের ছবি এবং প্রমাণ রয়েছে। তিনি ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এসব কারণে তাকে এনআইসিভিডিতে যোগদান করতে দেওয়া হবে না। ড্যাব এই অবস্থানে অটল থাকবে।

বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, তার বিষয়ে আমার জানার আগ্রহ নাই। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাকে পুর্নবাসন করেছে জামায়াতপন্থী চিকিৎসকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী বিষয়টি পুরোপুরি অবগত নন বলে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত ডা. মোরশেদ আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যা বলা হয়েছে, তা একদমই ঠিক নয়। বিশেষায়িত হাসপাতালে পদায়নের জন্য যেমন পরিচালকের সুপারিশ লাগে, এখানে হয়তোবা তেমনই ছিল।