রক্তে শর্করা নামলেই বিপদ! ডায়াবেটিকদের সঙ্গে কেন জরুরি খাবার রাখা দরকার?
বাড়ির বাইরে বের হলেই কি ডায়াবেটিস রোগীদের সঙ্গে জরুরি খাবার বা ওষুধ রাখা উচিত? সিনেমা দেখা কিংবা কোনো বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে গেলেও কি এসব সঙ্গে রাখা প্রয়োজন? চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হঠাৎ রক্তে শর্করা কমে যাওয়া বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া একটি জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই বাইরে বের হলে প্রয়োজনীয় খাবার ও সরঞ্জাম সঙ্গে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এক নারী সিনেমা হলে প্রবেশের সময় সঙ্গে জরুরি কিছু খাবার রাখতে চেয়েছিলেন। তবে প্রেক্ষাগৃহের কর্মকর্তারা তাকে অনুমতি দেননি এবং উল্টো অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ ওই নারীর কাছে ক্ষমা চায়।
চিকিৎসকেরা বলছেন, টাইপ ১ কিংবা টাইপ ২ যেকোনো ধরনের ডায়াবেটিসেই কখনো কখনো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে। মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া।
ভারতের ঠাণের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক বিজয় নেগালুর বলেন, ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় শরীরে দ্রুত গ্লুকোজ পৌঁছানোর দরকার হয়। তা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছালে, অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন। এককথায়, তা জরুরি অবস্থা। আর তা ঘটতে পারে যখন-তখন। হাত-পা কাঁপতে শুরু করলে, শরীরে অস্বস্তি হলে, মাথা ঝিমঝিম করলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত সতর্ক হতে হবে। রোগীকে গ্লুকোজ বা শর্করা জাতীয় খাবার দিতে হবে।’
বিভিন্ন কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। ইনসুলিন বা ওষুধের মাত্রার তুলনায় খাবার কম খেলে এমনটা হতে পারে। আবার কখনো ভরপেট খাওয়ার পরও রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে যেকোনো সময় হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দিতে পারে।
এ কারণে চিকিৎসকেরা বাইরে বের হওয়ার সময় সঙ্গে কিছু জরুরি খাবার রাখার পরামর্শ দেন। শুধু দীর্ঘ ভ্রমণ নয়, সিনেমা হল বা অন্য কোনো বিনোদনমূলক স্থানেও এসব সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। কারণ সিনেমা দেখার সময় শরীরে অস্বস্তি তৈরি হলেও রোগী শুরুতে তা বুঝতে নাও পারেন। অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহে পাশে থাকা ব্যক্তির পক্ষেও রোগীর শারীরিক পরিবর্তন সহজে বোঝা সম্ভব হয় না।
আরও দেখুন: সৈনিক পদে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
ডায়াবেটিস রোগীদের সঙ্গে দ্রুত শর্করা বাড়াতে পারে এমন খাবার রাখা যেতে পারে। এর মধ্যে গ্লুকোজ সবচেয়ে কার্যকর। পাশাপাশি ফলের রস, মিষ্টিজাতীয় খাবার বা লজেন্সও সঙ্গে রাখা যেতে পারে। যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে গ্লুকাগন সঙ্গে রাখা প্রয়োজন হতে পারে। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জরুরি পরিস্থিতিতে এটি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে।
ডায়াবেটিস রোগী একা বাইরে বের হলে জরুরি যোগাযোগের ফোন নম্বরও সঙ্গে রাখা উচিত। খাবারের পর ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন থাকলে সেটিও সঙ্গে রাখতে হবে। দীর্ঘ ভ্রমণে গেলে ইনসুলিনসহ প্রয়োজনীয় সব ডায়াবেটিসের ওষুধ সঙ্গে রাখা জরুরি।
তবে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণে রোগী যদি গিলতে বা কথা বলতে না পারেন কিংবা খিঁচুনির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন গ্লুকাগন প্রয়োগ করতে হতে পারে। রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বা গিলতে না পারলে জোর করে পানি কিংবা গ্লুকোজ খাওয়ানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।