১১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩৮

সারদায় এএসপি, ঢামেকে ড্যাব নেতা—পরিচালকের রুমে অনুসারীদের ‘মব’

এএসপি ডা. মুহাম্মদ জাবেদ আহমেদ ও ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান  © টিডিসি সম্পাদিত

এক কর্মকর্তার বদলিকে ঘিরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারামারি ও পরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পরিচালক বলছেন, তার কক্ষে মব করা হয়েছে। আর এর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) ডা. মুহাম্মদ জাবেদ আহমেদের হাতে।

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ‘মব’কারীরা চলে যাওয়ার পর বিকেলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এসব কথা বলেছেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান। এদিন সকালে ডা. জাবেদের অনুসারীদের সঙ্গে কর্মচারীদের একটি পক্ষের মারামারি হয়। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামের বদলিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত।

ডা. জাবেদ কিছুদিন আগেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালে গঠিত বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। গত ৮ আগস্ট ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে এর আগেই ২৭তম বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্ত এএসপি হিসেবে সারদায় প্রশিক্ষণে যুক্ত হন। এ হিসেবে, পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও পেশাজীবী চিকিৎসক সংগঠনের মাধ্যমে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ২১ মার্চ ২৭তম বিসিএসে এএসপি হিসেবে ডা. জাবেদের নামে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ওই সময় তিনি বিসিএসে যোগ দিলেও নিয়মানুযায়ী প্রশিক্ষণে যোগ দেননি। পরে তার নামে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়। তবে ৫ আগস্টের পর এই বিভাগীয় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে হামলা, আহত ৪

হাসপাতাল সূত্র বলছে, ডা. জাবেদ গত ২৮ জুলাই নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে রেজাউলের বদলির আদেশ নিয়ে এসেছিলেন। তার জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে। কিন্তু বিশ্বস্ত কর্মচারী রেজাউলের বদলি স্থগিত করে দেন খোদ হাসপাতাল পরিচালক। এ নিয়ে দুটি পক্ষ তৈরি হয়। পরে বদলি আদেশ বাতিল হলে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এ নিয়ে সকালে ডা. জাবেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সার্জারি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. অভি, ডা. নজরুল, ইউরোলজির ডা. আসাদ, ডা. নাহিদ এবং ঢামেকের ৭৩তম ব্যাচের ছাত্রদল নেতা ডা. মিশকাতের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পর্যায়ে তারা প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষ তালাবদ্ধ করতে গেলে মো. হানিফ ভূঁইয়া নামে এক কর্মচারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় হানিফকে মারধর করেন চিকিৎসকরা। পরে অন্যান্য কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে এলে মারামারি শুরু হয়। এতে ডা. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. দিগন্ত হক ও ডা. আলফাজ হোসেন শিহাব মারধরের শিকার হন। এর আগে-পরে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা হাসপাতাল পরিচালককে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন ডা. জাবেদের অনুসারীরা। পরে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর উপস্থিতিতে এর ‘সমাধান’ হয়।

বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতি ঢামেক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. শিপন মিয়া ঘটনার সময় গণমাধ্যমকে বলেন, কর্মকর্তার কক্ষে তালা মারার জন্য ডা. জাবেদের অনুসারীরা হানিফ ভূঁইয়ার কাছে তালা চায়। হানিফ ভূঁইয়া তালা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। আমরা এ ঘটনায় শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছি। এরই মধ্যে চিকিৎসকরা আরেক দফা আমাদের ওপর হামলা করেছেন।

জানতে চাইলে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে হাসপাতালের সমস্ত টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন ডা. জাবেদ। তার সুবিধার জন্য আমার বিশ্বস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি করে যাচ্ছেন। আমি এতে বাধা দেওয়ার কারণে তার অনুসারীরা আমার কক্ষে মব করেছেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় দুটি পক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। আজকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ওই চিকিৎসকদের বসার কথা রয়েছে। একইভাবে আগামীকাল কর্মচারীদের সঙ্গে মন্ত্রী বসবেন।

সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত শিক্ষানবিশ এএসপি ও বিএনপিপন্থী চিকিৎসক নেতা ডা. মুহাম্মদ জাবেদ আহমেদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘উনি যদি বলে থাকে আমার কথা, প্রমাণ দিয়ে লিখে দেন। কথা শোনার সময় নাই। আমি মিটিংয়ে আছি।’

‘মবে’ নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে ডা. মেশকাত ও ডা. অভির মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।