০৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:০৮

সংক্রামক রোগ গবেষণায় আজীবন সম্মাননা পেলেন আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী ড. ফিরদৌসী কাদরী

ড. ফিরদৌসী কাদরী  © সংগৃহীত

সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা, টিকা উন্নয়ন ও বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতে অসামান্য অবদানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এ ভূষিত হয়েছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফিরদৌসী কাদরী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (বিডিআই) এই সম্মাননা দিয়েছে। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্দলীয় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (বিডিআই) ২০১২ সাল থেকে এই পুরস্কারটি দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়ে থাকে।

বিডিআইয়ের আসন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ড. ফিরদৌসী কাদরীর হাতে এই লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হবে। সম্মাননা গ্রহণের পাশাপাশি সম্মেলনে তিনি একটি কী-নোট স্পিচ প্রদান করবেন।

ড. ফিরদৌসী কাদরী প্রায় ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কলেরার সাশ্রয়ী টিকা উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কলেরা ও ডায়রিয়াজনিত রোগ প্রতিরোধে তার উদ্ভাবিত ও প্রয়োগকৃত টিকাদান কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া ইটিইসি, টাইফয়েড, হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি ও রোটা ভাইরাসের মতো অন্যান্য সংক্রামক রোগ ও মিউকোসাল ইমিউনোলজি বিষয়েও তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন বিশেষজ্ঞ।

শিক্ষা জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে ১৯৮০ সালে যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে আইসিডিডিআর,বিতে সহযোগী বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মিউকোসাল ইমিউনোলজি ও ভ্যাকসিনোলজি ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২১ সালে এশিয়ার নোবেলখ্যাত ‘রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার’ এবং ‘লরিয়েল-ইউনেস্কো উইমেন ইন সায়েন্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। জাতীয় পর্যায়ে তিনি ২০২৩ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির গোল্ড মেডেল, ক্রিস্টোফ মেরিএউক্স পুরস্কার এবং সি. এন. রাও পুরস্কার সহ বহু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।