বিএমইউতে জিনোমিকস ও প্রিসিশন মেডিসিনবিষয়ক আন্তর্জাতিক বক্তৃতামালা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের উদ্যোগে ‘ট্রান্সফর্মিং ক্যান্সার থ্রু জিনোমিকস অ্যান্ড প্রিসিশন মেডিসিন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বক্তৃতামালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার।
অনুষ্ঠানের প্যাট্রন ও ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন স্বাগত বক্তব্যে বলেন, আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসায় জিনোমিকস ও প্রিসিশন মেডিসিন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। রোগীর জিনগত ও আণবিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে চিকিৎসা নির্বাচন করা সম্ভব হলে চিকিৎসার কার্যকারিতা বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হ্রাস এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্যান্সারসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। বাংলাদেশেও জিনোমিকস, মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস, বায়োইনফরমেটিকস, জেনেটিক কাউন্সেলিং এবং প্রিসিশন অনকোলজিতে দক্ষ জনবল ও গবেষণা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বক্তৃতামালায় দুইজন বিদেশি বিশেষজ্ঞ বক্তব্য প্রদান করেন। তারা হলেন— যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ইউসিএল জিনোমিকসের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মার্ক ক্রিস্টিয়ানসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স ইউনিভার্সিটি, নিউ জার্সির হিউম্যান জেনেটিকস বিভাগের অ্যাডজাঙ্কট অধ্যাপক ডা. দিয়েগো মারিন।
বিদেশি বক্তারা ক্যান্সারের জিনগত পরিবর্তন শনাক্তকরণ, মলিকুলার প্রোফাইলিং, বায়োমার্কারভিত্তিক চিকিৎসা নির্বাচন, টার্গেটেড থেরাপি, বংশগত ক্যান্সারের ঝুঁকি নিরূপণ এবং প্রিসিশন অনকোলজির সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। তারা জিনোমিক তথ্যকে ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সমন্বয় করার পাশাপাশি মানসম্মত পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষিত জনবল, তথ্যের নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন প্রিসিশন মেডিসিন বিষয়ে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের স্নাতক ডা. ফারজানা ইয়াসমিন। তিনি বাংলাদেশে প্রিসিশন মেডিসিন ও জিনোমিকসের সম্ভাবনা, দক্ষ জনবল তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জিনোমিকস ও প্রিসিশন মেডিসিনভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার জিনোমিক গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষক প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তৃতা শেষে প্রশ্নোত্তর ও বৈজ্ঞানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জিনোমিকস ও প্রিসিশন অনকোলজির সক্ষমতা বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক ও গবেষক বিনিময় এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।