০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৬

এক রোগের চিকিৎসা নিতে গিয়ে যক্ষ্মা নিয়ে ফিরছেন রোগীরা, ক্লিনিক বন্ধ করল স্বাস্থ্য বিভাগ

বন্ধ করা বেসরকারি ক্লিনিক  © সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ফুসফুসবহির্ভূত যক্ষ্মা বা ‘এক্সট্রাপালমোনারি টিবি’। ইতোমধ্যে ‘মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৩ জন রোগী এই টিবিতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্তে উঠে এসেছে। অজানা এই সংক্রমণের বিস্তার রোধে ও উৎপত্তির কারণ অনুসন্ধান এবং লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সাথে লাইসেন্স না থাকায় একই উপজেলার ভেদরগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার (২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসকে পাঠানো শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পত্রে জানিয়েছেন, গত এপ্রিল থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় একটি নির্দিষ্ট সোর্স (মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক) থেকে এক্সট্রাপালমোনারি টিবি কেইস অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি অনুসন্ধানপূর্বক যাচাই ও তদানুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান ও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করায় সিভিল সার্জন এক্সট্রাপালমোনারি টিবি রোগের উৎপত্তির কারণ উদঘাটনের জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। ওই তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি বিগত ২০ জুন মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক উপস্থিত হয়ে তদন্ত বা অনুসন্ধান করেন।

তদন্ত কমিটি তাদের মতামতে উল্লেখ করেন, ওই ক্লিনিকে ৫৩ জন রোগী ইতোমধ্যে এক্সট্রাপালমোনারি টিবিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর উৎস এখনো নিশ্চিত নয়, উৎস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আগত অন্যান্য রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ প্রতিরোধের স্বার্থে ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সুপারিশ করেন। সুপারিশের প্রেক্ষিতে এক্সট্রাপালমোনারি টিবি রোগের উৎপত্তির কারন উদঘাটন ও সংক্রমন বিস্তাররোধের স্বার্থে মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের সম্পূর্ন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরে ৫ কর্মকর্তার সমন্বয়ে এক্সট্রাপালমোনারি টিবি রোগের উৎপত্তির কারণ অনুসন্ধানে টিম গঠন করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের লাইসেন্স ২০২২-২০২৩ পর্যন্ত আছে। সেইসঙ্গে অনলাইনে ২০২৩-২০২৪ বছরের আবেদন ইনেসপেকশনে রয়েছে। এতে বলা হয়, ক্লিনিকটি পূর্বেই বন্ধ ছিল। ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিকের লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে ডায়াগনষ্টিকটি সীলগালা করে ১ আগস্টে বন্ধ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ভেদরগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিকের ২০২২-২০২৩ এর আবেদন নতুন হিসাবে করা কখনো লাইসেন্স পায়নি। ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তি আছে। বাকি সকল কাগজ (পরিবেশ/নারকোটিক) ছাড়পত্র নেই, শুধু আবেদন করা। ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্স না থাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে ডায়াগনস্টিকটি তাৎক্ষনিক ১ আগস্ট সিলগালা করে বন্ধ করা হয়। ক্লিনিকে রোগী ভর্তি থাকায় নতুন রোগী ভর্তি না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন এবং ভর্তিকৃত রোগীর চিকিৎসা শেষে আগামী ৮ আগস্ট ক্লিনিকটি বন্ধ করে সিলগালা করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

এর আগে গত ১ আগস্ট দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। পরিদর্শনকালে চিকিৎসা সেবা দেয়ার মতো মান না থাকায় এই দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেন তিনি। একই দিন অফিস সময়ে ভেদরগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে রোগী দেখায় আজ রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি এন্ড অবস্)  ডা. শারমিন জাহান সোমাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।