০১ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৮

ভবন আর কলেজ বাড়ালেই স্বাস্থ্যখাতের সংকটের সমাধান হবে না

বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত  © সংগৃহীত

গত দেড় দশকে স্বাস্থ্যখাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও অপরিকল্পিত ক্রয়, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি জানান, সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে দেশের কোনো কোনো হাসপাতালে ১০ বছর আগে কেনা যন্ত্রপাতিও এখনো প্যাকেটবন্দি অবস্থায় রয়ে গেছে। শুধু নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা একের পর এক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করলেই স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান সংকটের সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

আজ শনিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. এম এ মুহিত বলেন, গত ১৫ বছরে স্বাস্থ্যখাতে শত শত কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। কিন্তু কোথাও আধুনিক যন্ত্র থাকলেও তা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই, আবার কোথাও যন্ত্র সচল থাকা সত্ত্বেও রিএজেন্ট কিংবা এক্স-রে প্লেটের মতো প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে সেগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা একের পর এক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করলেই স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান সংকটের সমাধান হবে না। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। একজন চিকিৎসক একা সেবা নিশ্চিত করতে পারেন না উল্লেখ করে তিনি চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সমন্বয়ে কার্যকর টিম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের প্রায় ২০০টি পদ শূন্য রয়েছে। দুই হাজার ২০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন এখানে প্রায় পাঁচ হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বেসিক সায়েন্সের শিক্ষক সংকটের কারণে চিকিৎসা শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যমান সংকট নিরসনে তিনি দ্রুত চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে বর্তমান অবকাঠামো ও সরঞ্জামগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জসীম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।