স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির যে অগ্রগতি ৫-১০ বছরে হতো, এখন তা দুই বছরে হচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি আগে ৫ থেকে ১০ বছরে হতো, তা এখন দুই বছরেই সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একই সঙ্গে সারাদেশের স্বাস্থ্যখাতের আমূল পরিবর্তনে ই-হেলথ কার্ড এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাতে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করতে ডিজিটাল রোডম্যাপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর বর্তমান সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে। সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রিমডেলিং (নতুন রূপদান) নিয়ে কাজ করছে, যার বিস্তারি রূপরেখা নির্বাচনী ইশতেহার ও বিভিন্ন বক্তব্যে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পুরো হেলথ সিস্টেমের ডিজিটাল রোডম্যাপ তৈরির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।
তিনি বলেন, এই পরিকল্পনাগুলো হুট করে নেওয়া হয়নি। গত দেড়-দুই বছর ধরে দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে একটি 'পার্টিসিপেটরি প্রসেস' বা অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে।
প্রযুক্তির দ্রুতগতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হচ্ছে, তা আগে ৫ বা ১০ বছরে হতো, এখন তা দুই বছরে হচ্ছে। বিগত দুই বছরে এই সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। যার প্রতিফলন ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ ডকুমেন্টেশনে রয়েছে।
তিনি বলেন, দুই বা আড়াই বছর আগেও স্বাস্থ্য খাতে এআই নিয়ে এতটা ভাবা হয়নি, যতটা গুরুত্ব এখন তৈরি হয়েছে। ই-হেলথ কার্ড এবং ডিজিটাল প্রেসক্রিপশনের মতো বিষয়গুলো এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে।
সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং মানুষের বেসিক হেলথকেয়ারকে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপর জোর দিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, সরকারি সংস্থা, এনজিও এবং একাডেমিক রিসার্চ— এই তিন পক্ষ ভিন্ন পারসপেক্টিভ থেকে একই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে।
সভায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মোহাম্মদ এনামুল হক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম পামী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।