১৩ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৩

মেডিকেল কলেজে ৫০, উপজেলা হাসপাতালে হচ্ছে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল  © সংগৃহীত

সারাদেশের মেডিকেল কলেজে ৫০ ও উপজেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, আমরা এরই মধ্যে ঘোষণা করেছি যে সারাদেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে যাচ্ছি। সে লক্ষ্যে ল্যাবরেটরির সকল ইকুইপমেন্ট আমদানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া এক্সরে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় ব্লাড এক্সামিনেশন মেশিন, আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন— সেগুলো প্রত্যেকটা উপজেলায় স্থাপন করতে যাচ্ছি এবং কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ৫০ এবং প্রত্যেকটা উপজেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন... একটা বৃহত্তর কাজ এবং কঠিন কাজ; প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি।

এর আগে সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্রাক ও লেগো ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সাসটেইনিং প্লে,  লার্নিং অ্যান্ড ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটস (স্প্ল্যাশ)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই বছরের মধ্যেই প্রতিটি হাসপাতালে প্যাথলজি আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে যাচ্ছি। ল্যাব স্থাপনের চলতি মাসেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করা হবে। শুধু তাই নয়, দেশের মানুষকে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যা এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে মিডওয়াইফ (ধাত্রী) ও কেয়ারগিভাররা বিশেষ স্ক্রিনিং মেশিন নিয়ে সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।

পরিবার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মায়েদের সচেতন করতে বিশেষ প্রচারণামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেড়ে গিয়েছে, যা উদ্বেগজনক। এই হারকে একটি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকার দেশব্যাপী জোরদার জন্মনিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু করবে। গ্রামীণ পর্যায়ে এক সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর যে সহজলভ্যতা ছিল, তা আবার ফিরিয়ে আনা হবে।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের ধারাবাহিক উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তৎকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিটি উপজেলায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের অভিভাবক হিসেবে সেই ৩১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যায় রূপান্তরিত করেন। তারই ধারবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। হাসপাতালে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, প্রেয়ার কর্নার, আধুনিক প্যাথলজি ডিপার্টমেন্ট এবং কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনসহ নানামুখী সেবা নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, লেগো ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক আলামি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।