এবার রামেকের ৬ শিক্ষকসহ আরও ১৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার থাকায় ৬ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর তিন দিনের মাথায় আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। নতুন করে বিভাগীয় মামলার তালিকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপকসহ ৬ জন রয়েছেন। এই তালিকায় আরও আছেন জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকও। পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলেছে মন্ত্রণালয়।
বুধবার (৮ জুলাই) পৃথক কয়েকটি প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এসব প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন। বেসরকারি হাসপাতালটির শেয়ার থাকা ছাড়াও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরেক চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিভাগীয় মামলা দায়ের হওয়া এসব চিকিৎসক জেলা সদর হাসপাতালের সামনে নির্মিত ম্যাক্স হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার। সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও সরকারি হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকায় নতুন করে মামলা দায়ের হওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে ৭ জনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক। তারা হলেন— রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের অধ্যাপক ডা. এএইচএম তোহরুল ইসলাম, হেমাটোলজির বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম মুর্শেদ জামান মিঞা, নেফ্রোলজির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান, নিউরোমেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রেজা নাসিম রনি, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোকশানা আমিন, অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ এস এম আব্দুল্লাহ এবং নাক-কান-গলা বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আল-যোবায়ের।
মামলার শিকার ৫ চিকিৎসক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে কর্মরত। তারা হলেন— সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) (সার্জারি) ডা. মো. ইস্রাফিল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার (গাইনি) ডা. শাহনাজ খাতুন ফ্লোরা, মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিনা ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা. খাইরুন নেসা ও জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. আসাদুল ইসলাম।
এর বাইরে ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকায় রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুস সামাদ, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাঈমা আক্তার পাপিয়া, ঢাকা ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) লেকচারার (মেডিকেল অফিসার) ডা. মোস্তফা সানাউল হক এবং জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন (নাক-কান-গলা) ডা. মো. মাহবুব আলমের বিরুদ্ধেও এই মামলা হয়েছে। এ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে বিভাগীয় মামলার আসামী হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. দিলরুবা ইয়াসমিন।
এর আগে গত ৫ জুলাই ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকার দায়ে আরও ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তারা হলেন— জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) (শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা মুনিরা খাতুন ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম।
ওই দিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং অফিস সময়ে বেসরকারি সিটি হাসপাতালে কর্মরত থাকায় ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ডা. রাশেদকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না কেন— তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
কয়েকদিন আগে জেলা হাসপাতালের বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে বদলি করে স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই সময়ে স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে তাদের বদলি করার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ। ওই সময় তিনি আরও কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
তিনি বলেন, গত কিছুদিন আগে চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে নিজ নামে বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার ক্রয় ও পরিচালনা এবং নিয়মিত মাসিক বেতন-ভাতা উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিকার প্রসঙ্গে আমার কাছে একটা অভিযোগ দাখিল করেছেন ৫ জন। এরা পদ্মা এবং ম্যাক্স হসপিটালে শেয়ার নিয়ে সেখানে চাকরি করছে, ওদিকে তারা বেতন-ভাতাসহ সব সুযোগ গ্রহণ করছে। বিষয়টি সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দিলে ইনভেস্টিগেশন কমিটি ইনভেস্টিগেশন করেছে। রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে।