০৬ জুলাই ২০২৬, ২০:২৭

ছানি অপারেশনের অভাবে অন্ধত্বে ভুগছে ১০ লাখ মানুষ, আলো ফেরাতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

কথা বলছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত  © সংগৃহীত

দেশে ছানি অপারেশনের অভাবে প্রায় ১০ লাখ মানুষ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অন্ধত্বে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী  ড. এম এ মুহিত। এসব মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে দেশব্যাপী ছানি অপারেশনের পরিকল্পনা গ্রহন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরে অন্ধত্ব প্রতিরোধবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার (আইএপিবি) প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ডের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ শুধু ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিংবা অন্ধত্বের শিকার। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে সারাদেশে দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য বিনামূল্যে এবং অন্যদের জন্য স্বল্পমূল্যে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া সাম্প্রতিক বাজেটে ছানি অপারেশনের পর ব্যবহৃত কৃত্রিম লেন্সের ওপর কর কমানো হয়েছে, ফলে অপারেশনের ব্যয়ও অনেক কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।

ড. এম এ মুহিত আরও জানান, আগামী নভেম্বরে অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বের প্রথম ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’-এ বাংলাদেশ যৌথ আয়োজক (কো-হোস্ট) হিসেবে অংশ নেবে। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন।

এছাড়া গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চশমা বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আইএপিবি'র সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। সংস্থাটি এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

আইএপিবির প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড বলেন, চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। জাতিসংঘে দৃষ্টিশক্তি বিষয়ক প্রথম ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি স্পন্সর বা উত্থাপন করেছিল বাংলাদেশ। দশকের পর দশক ধরে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। ছানি অপারেশনের মানোন্নয়ন, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের কাছে চশমা পৌঁছে দিতে সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অংশীদাররা যৌথভাবে কাজ করছে।