২৭ জুন ২০২৬, ১৯:৪৬

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধে ছড়াচ্ছে গুজব, ‘বিব্রত’ কর্তৃপক্ষ

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  © সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু বক্তব্যের সাথে হাসপাতালের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন। আজ শনিবার (২৭ জুন) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে যে সকল বক্তব্য বা প্রচার ছড়ানো হয়েছে, তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিব্রত করেছে। এই সকল প্রচার বা বক্তব্যের সাথে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আদ্-দ্বীন সর্বদা দেশের প্রচলিত আইন এবং সরকারের যাবতীয় নিয়ম-শৃঙ্খলার প্রতি সম্পূর্ণ যত্নবান ও শ্রদ্ধাশীল।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ১৭ জুন মানবিক বিবেচনায় হাসপাতালটি চালুর জন্য আবেদন করে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত ২৪ জুন লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আপিল করেছে মালিকপক্ষ; একই সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশটির স্থগিতাদেশ চেয়েও আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল বন্ধ থাকায় গত ১৪ জুন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপ অন্য হাসপাতালে সম্পন্ন করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, চলমান ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার ক্লিনিক্যাল পার্টের জন্য পার্শ্ববর্তী একটি কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করেছে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ। তবে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের (এনএমসি) নীতিমালা অনুযায়ী, একই কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন এবং ইন্টার্নশিপ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের ডিগ্রির কার্যকারিতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এই সংকট নিরসনে গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ভারতীয় হাইকমিশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ধরনা দিলেও কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাননি।