২৭ জুন ২০২৬, ১৩:২৬

বিএমইউতে বিনামূল্যের ওষুধে বরাদ্দ বেড়ে ২০ কোটি, ফ্রি মিলবে যেসব ওষুধ

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা এবং হাসপাতালে ভর্তিকৃত সাধারণ রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ প্রদানের বরাদ্দ চলতি অর্থ-বছরে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৭ জুন) বিএমইউয়ের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। একই সাথে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য ৪ হাজার ৩৬৮ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার একটি মেগা উন্নয়ন বাজেটও প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের বাজেটে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার নিমিত্তে বরাদ্দ ৩ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১২ কোটি টাকা করা হয়েছিল। রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত পরিচালন বাজেটে তা আরও বৃদ্ধি করে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে নির্ধারিত ও প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধসমূহ এখন থেকে রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাবেন।

এই অর্থবছরে হাইপারটেনশন এবং ডায়াবেটিসের ওষুধগুলো বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এছাড়া আইসিইউর গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জেকশন মেনোপেনাম, ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে স্যালাইন এবং ওরাল অ্যান্টিবায়োটিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ওষুধগুলো বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এইগুলো ছাড়াও প্রায় ২৭ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ওষুধের বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গুচ্ছ আকারে প্রস্তাবিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট চার হাজার তিনশত আটষট্টি কোটি চৌত্রিশ লক্ষ (৪,৩৬৮.৩৪ কোটি) টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ অনুযায়ী দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পগুলোর দলিল প্রণয়ন করা হয়েছে।

অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলো হলো:

১. বেতার ভবন এরিয়া অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব, রিসার্চ সেন্টার ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প: প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭৩৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে বৈদেশিক অর্থায়ন ২৫৩৯ কোটি টাকা, জিওবি ৮৯৯ কোটি টাকা এবং নিজস্ব অর্থায়ন ৩০০ কোটি টাকা। জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে জুন ২০৩১ মেয়াদে বাস্তবায়িতব্য এই প্রকল্পটি স্বাস্থ্যসেবায় জনবল নিয়োগে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

২. এস্টাবলিশমেন্ট অব বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার, বিএমইউ: ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এই প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। ৯৩.৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের মেয়াদ জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত।

৩. সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল হেপাটোবিলিয়ারী এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার স্থাপন: ৪৩.৯৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই সেন্টারটির কাজ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪. কেন্দ্রীয় স্টেম সেল ও গবেষণাগার কেন্দ্র স্থাপন (ডেন্টাল স্টেমসেল ল্যাবরেটরি ও ব্যাংক, বায়োমেডিক্যাল): বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনে মেডিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে এই প্রকল্প সুপারিশ করা হয়েছে। ৩০৪.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০২৬ হতে জুন ২০২৯ মেয়াদে এটি বাস্তবায়িত হবে।

৫. ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিং সহ জনসংখ্যা ভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রীনিং কর্মসূচি (২য় পর্যায়): জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে দেশব্যাপী স্ক্রীনিং জোরদার করতে ১৮৮.৪৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মেয়াদ জুলাই ২০২৬ হতে জুন ২০৩০ পর্যন্ত।