২১ জুন ২০২৬, ২২:০৯

ক্যান্সার রোগীদের বছরে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেয় সরকার, কীভাবে পাবেন

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

ক্যান্সারসহ বেশ কিছু অসংক্রামক ও জটিল রোগে আক্রান্ত অসচ্ছল রোগীদের আর্থিক বোঝা কমাতে প্রতি বছর এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়ে থাকে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় এই অর্থ বিতরণ করা হয়।

তবে প্রচারণার অভাব, জনবল সংকট এবং সঠিক তথ্যের অভাবে প্রতি বছরই অনুদানের জন্য বরাদ্দকৃত মোটা অঙ্কের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত চলে যায়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মুহূর্তে এসেও অর্থ ফেরত যাওয়া ঠেকাতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বিশেষ বুথ বসিয়েও আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।

আবেদন করার পদ্ধতি
নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। ক্যান্সার বা নির্ধারিত ৬টি জটিল রোগের যেকোনো একটিতে আক্রান্ত হলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অসচ্ছল, দরিদ্র, ভূমিহীন, গৃহহীন বা অসহায় রোগীরা এই অনুদান পাবেন। একজন রোগী প্রতিবছর কেবল একবারই এই এককালীন ৫০ হাজার টাকার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সরকারি এই আর্থিক অনুদান পেতে রোগীদের নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে। এই ফরমটি সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, শহর সমাজসেবা কার্যালয় কিংবা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে। প্রতিটি হাসপাতালেও সমাজসেবা কার্যালয় রয়েছে।

আবেদনপত্রের সাথে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিগুলো অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে। এগুলো হলো— বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বাক্ষরসহ সংশ্লিষ্ট রোগের রিপোর্ট, রোগী এবং নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

আবেদনকারী দেশের যেকোনো প্রান্তের বাসিন্দা বা যেকোনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হোন না কেন, তিনি এই আবেদন করতে পারবেন। পূরণকৃত ফরমটি রোগীর নিজ এলাকার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় অথবা জেলা শহরের শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে?
আবেদনপত্র জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা জেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ও যোগ্য রোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে। আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর বরাদ্দের টাকা সরাসরি রোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা নির্ধারিত নিয়মে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর জুন মাসে সরকারি অর্থবছর শেষ হওয়ার কারণে এই সময়ের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি। জুনের ডেডলাইন পার হয়ে গেলে ওই অর্থবছরের বরাদ্দকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত চলে যায়। তাই ক্যান্সার আক্রান্ত যোগ্য ও অসচ্ছল রোগীদের দ্রুত এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসার অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।