আগের সরকারের গাফিলতিতেই হামের টিকাদান ব্যাহত, তদন্তের প্রয়োজন নেই
২০২৪-২৫ সালের টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। আজ রবিবার (২১ জুন) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি। পর্তুগালের লিসবন সফর শেষে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
এ সময় হামের টিকা ঘাটতি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় গাফিলতির কারণে ২০২৪-২৫ সালের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে টিকা ও অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রীর ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ব্রিফিংকালে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে আগামী এক বছরের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার। একই সঙ্গে আগামী তিন বছরের মধ্যে উপজেলা ও প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে গর্ভবতী মায়েদের উন্নত সেবা নিশ্চিতে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসাব্যবস্থাকে রোগের চিকিৎসানির্ভর ধারা থেকে প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করতে চায়। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহুরে ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা হবে। এসব কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা থাকবে এবং অন্তত দুজন করে মিডওয়াইফ দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, বর্তমানে ৩০ থেকে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাভাবিক প্রসব, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা ও পূর্ণাঙ্গ মাতৃসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে সরকারি ব্যবস্থায় মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার মিডওয়াইফ কর্মরত আছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ সংকট মোকাবিলায় আগামী এক বছরের মধ্যে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, এই বিপুলসংখ্যক মিডওয়াইফ নিয়োগের আগে মাঠ পর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে তাদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে সরকার এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলা হবে। এই নতুন নেটওয়ার্কের আওতায় বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এবং সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।
তবে দেশের কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বাতিল হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলোকে বৃহত্তর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের আওতায় ‘স্বাস্থ্য হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে প্রতিটি রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেফারেল ব্যবস্থা সহজ করা যায়।