আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল স্থগিত চেয়ে আবেদন
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সেবাকার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমতি চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মানবিক কারণ দেখিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আজ বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১১০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। এই অবস্থায় তাঁদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে জীবনঝুঁকি চরমভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
এর আগে গত সোমবার (১৫ জুন) হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক জামালুন্নেসার সই করা আবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনার আলোকে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারের কাছে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের অবকাঠামো ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ইতিমধ্যে হাসপাতাল প্রাঙ্গণের আধুনিকায়ন, ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচল ব্যবস্থার উন্নয়ন, মেডিকেল কলেজ ভবনের ভেতরে পরিচালিত বেকারি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করাসহ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ১১০ জন রোগীর একটি বড় অংশই নবজাতক ও শিশু। এর মধ্যে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র ও এইচডিইউতে ৯ জন, সিসিইউতে ২ জন, এনআইসিইউতে ৪৩ জন, শিশু ওয়ার্ডে ২৯ জন, গাইনি ও প্রসূতি ওয়ার্ডে ৮ জন, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ৬ জন, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ২ জন, পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ৩ জন এবং বিভিন্ন কেবিনে ৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিকল্প হিসেবে ছয়টি হাসপাতালকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক রোগীর পরিবারই আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক স্থানান্তরকে অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।
এই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ মানবিক দিক বিবেচনা করে লাইসেন্স বাতিলের আদেশ কার্যকর করা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অথবা অন্ততপক্ষে বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটি সীমিত পরিসরে চালু রাখার সুযোগ দেওয়ার জন্য চিঠিতে বিশেষভাবে আর্জি জানিয়েছে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ।