দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কবে, ২৭ নাকি ২৮ জুন?
দীর্ঘ বিরতির পর দেশে আবারও দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ জুন। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
তথ্যমতে, পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৮ জুন ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা এক দিন এগিয়ে ২৭ জুন করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ২৮ জুনই ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় দুই কোটি ৩৫ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনে দুই কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী বলেন, আগামী ২৮ জুনের ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সারাদেশে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গম ও বিশেষ এলাকায় সেবা পৌঁছে দিতে ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের বেশিরভাগ চালান ইতোমধ্যে আমাদের হাতে পৌঁছেছে। বাকি ক্যাপসুলগুলোও আগামী ১৯ তারিখের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি। অভিভাবকদের অনুরোধ করব, তারা যেন নির্ধারিত দিনে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে তাদের সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ান।’
এদিকে, আজ সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১৯ কোটি প্রাক-বিদ্যালয় বয়সী শিশু ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব শিশুর অধিকাংশই আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাস করে। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, রাতকানা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে।
শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।