১৩ জুন ২০২৬, ২২:০৩

‘ও ব্যাটাও জামায়াত করে’

আদ-দ্বীন হাসপাতালের মালিক ডা. শেখ মহিউদ্দীন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল  © টিডিসি সম্পাদিত

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনি যা করবেন করেন, আমি আপনাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে দিব। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি। জামায়াতের লোকেরা বলে যে এটা নাকি বেইনসাফ হয়েছে। মানে, ও ব্যাটাও জামায়াত করে। মানুষকে ভোগা (ধোকা) দেয়। কয়েকটা টাকা কম নিয়ে ভোগা দিয়া ছয়টা বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে।’

এভাবেই বলছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি। নিজ তহবিল থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মালিকপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তার পেছনে ঘুরেছেন। তিনি বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পিছনে। আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় কোন টাকার প্রতি লোভ হয় নাই আমার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আপনি যা করবেন আমি আপনাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে দিব। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।’

নেপথ্যের কারণ বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের লোকেরা বলে যে এটা নাকি বেইনসাফ হয়েছে। মানে, ও ব্যাটাও জামাত করে, মানুষকে ভোগা (ধোকা) দেয়। কয়েকটা টাকা কম নিয়ে ভোগা দিয়া ছয়টা বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে। জানেন, আপনাদেরকে ভুল বোঝায় আল্লাহ নিয়ে গেছে। আল্লাহ এমনি নিয়ে যায়? এই ঘরের সবগুলি ফ্যান যদি বন্ধ করে গ্লাস লাগায়া আপনাদেরকে আধা ঘন্টা রাখি, বাঁচবেন না কি কেউ বলেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা বাচ্চা বিনা অক্সিজেনে তিন মিনিট বাঁচতে পারে, আর আমরা বয়স্করা ১৪ মিনিট বাঁচতে পারি। যদি ফ্যান না থাকে অক্সিজেন ঘরে না ঢুকে, কার্বন ডাইঅক্সাইড যে ছাড়বেন— গ্যাস, বিষাক্ত, সব মরে যাবে। বাচ্চাগুলিকে একটা রুমে, আমি তো ভিজিট করেছি— বন্ধ রুম, কোন জানালা নাই, তার মধ্যে নার্স এসি বন্ধ করে দিয়েছে। সকল বাচ্চা দুই ঘন্টা পরে সমানে কানতেছে যখন কার্বন ডাই অক্সাইড ভাইসা গেছে। প্রত্যেকের সাথে মা আছে, বাইরের লোক আছে। কাইন্দা কাইন্দা জোরে জোরে মায়েরা ডাকছে, একটা নার্স আসে নাই, একটা ডাক্তার নাই ডিউটিতে।’

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তারপরে একটা বাচ্চাকে নিয়ে গেছে উপরে, ১৫ মিনিটে সেই বাচ্চা ভালো। ঘর থেকে নেয়ার ১৫ মিনিট পরে যে বাচ্চাটা ভালো হলো, তখনই তো ডাক্তারের চিন্তা করা উচিত বাচ্চাটা এখন ভালো হইলো কেন? আমি যে আনাড়ি, ডাক্তার না, আমিও তো বুঝতাম যে বাচ্চা তো মুক্ত বাতাসে এসে ভালো হয়েছে, তার মানে ওইখানে অক্সিজেন পায় নাই। আবার বাচ্চাটাকে ঘরে নিছে, নেয়ার পরে ছয়টা বাচ্চা একসাথে মারা গেছে।’

‘তার লাইসেন্স বাতিল করবো নাকি চুমাব ধইরা বলেন তো’— প্রশ্ন রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘ওরা এখন উনার পক্ষে কথা বলে। কথা বলুক আর যাই করুক, বাতিল করছি তো করছি। এই একটা পানিশমেন্টে সারা বাংলাদেশের প্রাইভেট হসপিটালগুলি ঠিক হয়ে যাবে। মানুষকে সেবা দিতে হবে, টাকা নিবে। সস্তা কথা বলে— কম নেয়। আরে কী কম নেয়? ছয়টা মায়ের বুক খালি হয়েছে।’

উপস্থিত চিকিৎসক-কর্মকর্তাদেরও সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজেই এগুলি থেকে আপনাদের সাবধান থাকতে হবে। মানুষের সেবা করতে হবে সত্যিকারভাবে, বিনা স্বার্থে। লোক দেখানো সেবা করলে চলবে না।’