১১ জুন ২০২৬, ১৬:৩৮

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে সুখবর, বাড়ছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

সেবা খাতের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় নার্সদের  © সংগৃহীত

দেশের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশাজীবীদের জন্য আসছে বড় সুখবর। এই খাতে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি বিষয়ে ব্যাচেলর (স্নাতক) ও মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রির সুযোগ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এই কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার বিশ্বাস করে যে, একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হলো উচ্চমানের নার্সিং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। তাই নার্সিং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। এ উদ্দেশ্যে নার্সিং শিক্ষকদের আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য কানাডা সরকারের সহযোগিতায় একটি বিশেষায়িত নার্স শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারি ২৫টি নার্সিং কলেজে ২ বছর মেয়াদি এমএসসি ইন নার্সিং কোর্স চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আরও ৮টি সরকারি নার্সিং কলেজে এ কোর্স চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ৪টি নার্সিং কলেজে ৪ বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন নার্সিং কোর্স চালু করা হয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক ল্যাব ও সিমুলেশন সুবিধা বৃদ্ধি, ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা চালু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দেশের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত বৈষম্য দূরীকরণ, ডিপ্লোমা কোর্সের স্নাতক সমমান এবং সরকারি কলেজগুলোতে উচ্চশিক্ষার আসন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আন্দোলন ও দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সুখবর। দেশব্যাপী মানসম্মত ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা থাকছে এই বাজেটে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। একই সাথে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণে অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসকও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া সাধারণ বেকারদের কারিগরি দক্ষতা দিয়ে স্থানীয় ও বৈদেশিক বাজারের চাহিদা মেটাতে ৪ মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার বিষয়টিও বাজেটে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ বছর স্বাস্থ্যখাতে মোট ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার এক বিশাল বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মোট জিডিপির ১.০১ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। বাজেটের একটি অংশ নার্সিং খাতের আধুনিকায়ন এবং চিকিৎসকদের নতুন ও সময়োপযোগী এমবিবিএস কারিকুলাম (যেখানে এআই এবং আধুনিক ক্লিনিক্যাল মডিউল থাকবে) প্রণয়নে ব্যয় করা হবে।