১০ জুন ২০২৬, ১৮:৪৬

হাসপাতালে ‘অস্ত্র’ সরবরাহের কথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, সংসদে হাস্যরস

বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল  © সংগৃহীত

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সরদার মো. সাখাওয়াত বকুল হোসেন। এ সময় তিনি এক সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালগুলোতে জনবল এবং অস্ত্রপচারের (অপারেশন) যন্ত্রপাতি বলতে গিয়ে বলেন, ‘অস্ত্র’ দেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও হাসেন এবং তার কথা সংশোধন করেন।

আজ বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, আত্মপীড়িত জনগণের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম সারা দেশব্যাপী তৎকালীন প্রত্যেকটি থানায় ৩০ থেকে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তৎপরবর্তীতে কোনও সরকার এই খাতে মনোনিবেশ করেননি।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন দ্বিতীয়বারের মতো ২০২১ এ ক্ষমতায় আসলেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেই দলেরই প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারা দেশব্যাপী সকল উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘একই দলের একই পরিবারের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল মানুষের নিকটস্থ সেবা আরও সহজতর করার লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুধু হাসপাতাল না, সাথে জনবল, অস্ত্র, মানে যন্ত্রপাতি, আইসিইউ এবং পোস্ট অপারেটিভ সেন্টার...।’

এ সময় মন্ত্রীর বক্তব্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘স্যরি, মাননীয় স্পিকার স্যার সাহেব, স্যরি। অস্ত্র না, আমি বলেছি যন্ত্রপাতি।’

এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেকেই হেসে ওঠেন। সাথে সাথে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও হাসতে থাকেন। হাসতে হাসতে কথা বলতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আর অস্ত্রপচারের জন্য যন্ত্রপাতি, এমনকি মাদার ব্রেস্টফিডিং কর্নার পর্যন্ত প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেটা করেছেন।’