গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আধুনিকায়নের কৃতিত্ব শহীদ জিয়ার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের প্রতিটি থানা হেডকোয়ার্টারে ৩১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আধনিকায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, তিনিই গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
আজ বুধবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আধুনিকায়নে শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে শহীদ জিয়াউর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াই প্রথম রাষ্ট্রনায়ক যিনি গ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিটি থানা হেডকোয়ার্টারে ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন এ দেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রকৃত পথপ্রদর্শক। শহীদ জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করেই পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৩১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন।
শহীদ জিয়ার উন্নয়ন দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়াউর রহমান যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সূচনা করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ৩১ বা ৫০ শয্যার বিদ্যমান সকল হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে দিয়েছি।
স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি শহীদ জিয়ার অন্যান্য কালজয়ী কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে শহীদ জিয়া যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, বর্তমান সরকারও পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে তা পুনরায় চালু করেছে। এরই অংশ হিসেবে গতকালই একনেক সভায় বরিশালের জন্য একটি খাল খনন প্রকল্প পাস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান শিশুদের বিকাশের জন্য শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তার সততা ছিল প্রশ্নাতীত; কোনো শত্রুও তার বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি।
ড্যাবের আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ও সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ আরও অনেকে।