স্বাস্থ্যখাতে চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ
দেশের স্বাস্থ্য খাতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে চরম অব্যবস্থাপনা এবং নজিরবিহীন বাজেট বৈষম্যেরও অভিযোগ তুলেছে দলটি। এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আজ রবিবার (৭ জুন) রাজধানীতে দলটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীনের নেতৃত্বে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও রাজনীতিবিদ ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। এছাড়াও জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সারির নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার মূল দায়িত্ব বাদ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে রাজনীতি করবেন, তা হতে দেওয়া যাবে না। যোগ্য ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের অবমূল্যায়ন করে দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যা স্পষ্টত ফ্যাসিবাদের নীতি। এই ফ্যাসিবাদী নীতি নিয়ে আপনারা স্বাস্থ্য খাত চালাতে পারবেন না। শহীদদের রক্ত আর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
তিনি বর্তমান প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে বলেন, যারা অতীতে জনগণের ওপর জুলুম করেছে এবং স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশে জনগণ একটি বৈষম্যহীন ও স্বচ্ছ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. এস এম খালিদুজ্জামান দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও বাজেট বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মোট বাজেটের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। অথচ আমাদের দেশে এই সংবেদনশীল খাতে বরাদ্দ মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ, যা জিডিপির তুলনায় ১ শতাংশেরও নিচে। একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী জাতি গঠন করতে হলে সবার আগে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা প্রয়োজন। দেশে চলমান অস্থিরতা ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে স্বাস্থ্য খাতকে সবার আগে সঠিক ও দুর্নীতিমুক্ত পথে ফিরিয়ে আনা জরুরি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অন্যান্য চিকিৎসক ও নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। চিকিৎসকদের এককভাবে দায়ী না করে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের ভূমিকা জোরদার করতে হবে। একই সাথে স্বাস্থ্য খাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তারা।