০৫ জুন ২০২৬, ১৫:৫৭

এআই ব্যবহার করে টিকা উদ্ভাবন করলেন কেমব্রিজ গবেষকেরা

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে সব ধরনের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির এক সর্বজনীন টিকা তৈরির দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। টিকার মূল নকশাটি সম্পূর্ণভাবে এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করে পরবর্তীতে তা মানুষের শরীরে সফলভাবে পরীক্ষাও করা হয়েছে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এবারই প্রথম। 

গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই টিকাটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যা বিদ্যমান সব ধরনের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তো কাজ করবেই, পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে এমন যেকোনো নতুন ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধেও সুরক্ষা দেবে। গবেষণাটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এই একই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে গবেষক দলটি ইতিমধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধেও আলাদা টিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।

সাধারণত প্রচলিত টিকাগুলো মানুষের শরীরকে নির্দিষ্ট কোনো সংক্রমণ বা ভাইরাসের রূপ শনাক্ত করতে শেখায়। তবে কিছু ভাইরাস অত্যন্ত দ্রুত নিজেদের জিনগত বৈশিষ্ট্য বা মিউটেশন বদলে ফেলে, যার ফলে কোভিড-১৯ বা মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো টিকাগুলো দ্রুত কার্যকারিতা হারায় এবং সেগুলোকে নিয়মিত হালনাগাদ করতে হয়। এই জটিলতা দূর করতে কেমব্রিজের গবেষকেরা বিভিন্ন ধরনের করোনাভাইরাসের পরিচিত জিনগত কোড সংগ্রহ করে তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন। 

এআই সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে একটি বিশেষ ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ তৈরি করেছে। এই সুপার-অ্যান্টিজেনটি ভাইরাসের রূপ বদল হলেও মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সব ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্ত ও ধ্বংস করার আগাম প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জনাথন হিনি এই প্রযুক্তিকে ‘বিস্ময়কর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘সাধারণত কোনো মহামারি বা ভাইরাস ছড়ানোর পর তা প্রতিরোধী টিকা নিয়ে কাজ শুরু হয়। কিন্তু তারা এখন এমন একটি যুগান্তকারী পদ্ধতি তৈরি করছেন, যার মাধ্যমে নতুন কোনো সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব বা মহামারি শুরু হওয়ার আগেই মানবদেহের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’ 

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বজুড়ে মহামারি মোকাবিলায় মানুষ যেভাবে প্রস্তুতি নেয়, এই এআই প্রযুক্তি সেই সনাতন পদ্ধতিতে একটি মৌলিক ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।’