০৩ জুন ২০২৬, ২১:১০

বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট ও সেল থেরাপির খসড়া নীতিমালা দুই মাসের মধ্যে, প্রণয়নে কমিটি গঠন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়  © টিডিসি সম্পাদিত

দেশে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট (অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন) ও সেল থেরাপির মতো উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতিকে সুশৃঙ্খল ও আইনগত কাঠামোর মধ্যে আনতে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে খসড়া নীতিমালা প্রণয়নে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই কমিটিকে খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশে এই তথ্য জানা গেছে। গত ২৪ মে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুজ্জামান খান। কমিটির সদস্য সচিব হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেমাটোলজি ও বিএমটি (বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল হাসান। কমিটির অপর সদস্য হলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আয যুবায়ের খান।

কমিটিকে আগামী ২ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, সদ্য প্রণীত ‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ২০২৬’-এর আলোকে এই বিধিমালায় কোন কোন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, সে সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করবে এই কমিটি। কাজের সুবিধার্থে কমিটি চাইলে যেকোনো সময় নতুন সদস্য কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করতে পারবে।

বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট মূলত অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন পদ্ধতি। ব্লাড ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া বা অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার মতো জটিল রোগে যখন শরীরের রক্ত তৈরি করার স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, তখন রোগীর শরীরে সুস্থ স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করে নতুন রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়াকে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট বলে। আর সেল থেরাপি চিকিৎসা বিজ্ঞানের অত্যন্ত আধুনিক একটি শাখা, যেখানে কোনো রোগ নিরাময়ের জন্য সাধারণ ওষুধের বদলে সরাসরি ‘জীবন্ত কোষ’ রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় কোষগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রক্রিয়াজাত বা শক্তিশালী করে ক্যান্সার বা অন্যান্য জটিল টিস্যু মেরামতের কাজে ব্যবহার করা হয়।