ওজন কমানোর ওষুধে কমতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা
ওজন কমানোর জনপ্রিয় কিছু ওষুধ ব্যবহার করলে স্তনসহ বিভিন্ন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া বা এতে মৃত্যুর ঝুঁকি অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে আয়োজিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যানসার সম্মেলন আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত একাধিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসার জন্য বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের ব্যবহৃত ‘জিএলপি-১’ গোত্রের ওষুধগুলো এখন ক্যানসার প্রতিরোধ এবং এর চিকিৎসায়ও যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর গার্ডিয়ানের
সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রথম গবেষণায় ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী ১ লাখ ১০ হাজার নারীর ওপর একটি বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনা চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, যারা জিএলপি-১ ওষুধ সেবন করেছেন, তাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অন্য নারীদের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার রেডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এলিজাবেথ ম্যাকডোনাল্ড এই গবেষণাটি উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, স্থূলতা এবং ক্যানসার কোষের বিস্তারের পেছনে ভূমিকা রাখা শরীরের অভ্যন্তরীণ মৃদু প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে এই ওষুধগুলো দারুণ কার্যকর, যা ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
ইতালির একটি ক্যানসার সেন্টারের নেতৃত্বে পরিচালিত ২৭ হাজার স্তন ক্যানসার রোগীর ওপর করা দ্বিতীয় আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত ক্যানসার চিকিৎসার পাশাপাশি এই ওজন কমানোর ওষুধ যুক্ত করায় রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের করা ১২ হাজার রোগীর ওপর তৃতীয় আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন, ফুসফুস, অন্ত্র বা লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যারা এই ওষুধ সেবন করেছেন, তাদের ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার (স্টেজ-ফোর) আশঙ্কা ৩৮ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
মূলত জিএলপি-১ ওষুধগুলো মানুষের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষুধা মন্দা তৈরির মাধ্যমে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ওষুধের কার্যকারিতা শুধু ওজন কমানো বা শর্করা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রদাহবিরোধী ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর গুণাগুণও বেশ জোরালো।
তবে নিউ জার্সির ভ্যালি হেলথ সিস্টেমের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. ইলিওনারা টেপলিনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, ‘ক্যানসারের এই ঝুঁকি হ্রাস কি কেবল ওজন কমার কারণে হচ্ছে নাকি ওষুধের অন্য কোনো রাসায়নিক উপাদানের কারণে, তা নিশ্চিত হতে আরও দীর্ঘমেয়াদি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।’