২১ মে ২০২৬, ১৬:০৯

স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর, বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান

বক্তব্য রাখছেন ড. এম এ মুহিত  © সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় উন্নয়নের একদম কেন্দ্রবিন্দুতে স্বাস্থ্যখাতকে স্থান দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের মূল অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এমন কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে জানিয়েছেন, সরকার ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বানও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হওয়া ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. এম এ মুহিত। গত ১৯ মে সম্মেলনের মূল অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখার সময় তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটের কারণে সৃষ্ট নানামুখী চ্যালেঞ্জের কথা বৈশ্বিক নেতাদের সামনে তুলে ধরেন। তার সঙ্গে রয়েছে ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

মূল অধিবেশনে ড. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমান নতুন সরকার জাতীয় উন্নয়নের একদম কেন্দ্রবিন্দুতে স্বাস্থ্যখাতকে স্থান দিয়েছে। তবে এখনও দেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষকে নিজের পকেট থেকে মেটাতে হয়, যা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার ধাপে ধাপে সরকারি স্বাস্থ্য বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সবার জন্য সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, কার্যকর রেফারাল সিস্টেম ও যুগোপযোগী ডিজিটালাইজেশনের ওপর কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকির সামনের সারিতে থাকা বাংলাদেশের ওপর এর নেতিবাচক স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রোগের ধরন দ্রুত পাল্টাচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া ১.৩ মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিকের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের সীমিত স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোর ওপর বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ওপর বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অর্থায়নের সংকোচন, আন্তর্জাতিক সংঘাত ও মানবিক সংকটের মারাত্মক প্রভাবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের তাগিদ দেন। বাংলাদেশ নিরাপদ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য ‘প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং’ ব্যবস্থা দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে অসংক্রামক রোগ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানো) মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।

মূল অধিবেশনের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের একটি সাইড ইভেন্টে গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের (গ্যাভি) নীতি-নির্ধারণী সভায় বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে অংশ নেন ড. এম এ মুহিত। সেখানে তিনি দেশের বর্তমান সরকারের চলমান স্বাস্থ্য সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন। সরকার বর্তমানে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সরকারি-বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্য তথ্যের সমন্বয়, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবা ও অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় কার্যক্রম জোরদারকরণে কাজ করছে বলে তিনি বিশ্বনেতাদের অবহিত করেন।