২০ মে ২০২৬, ১৮:১১

পরিচালকের নামফলক-কক্ষ ভাঙচুর, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞকে ঢাকায় বদলির পর শোকজ

নওগাঁ মেডিকেল কলেজ ও ডা. এইচ এম মাহমুদ হারুন  © টিডিসি সম্পাদিত

পরিচালকের নামফলকসহ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর ও হাসপাতালে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে নওগাঁ মেডিকেল কলেজের সাইকিয়াট্রি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. এইচ এম মাহমুদ হারুনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ১২ মে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এই শোকজ নোটিশ দেন। তবে তাকে বদলি করা হয়েছে ঢাকার একটি মেডিকেল কলেজে।

ডা. এইচএম মাহমুদ হারুন ঘটনার সময় নওগাঁ মেডিকেলের সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন। গত ১০ মে তাকে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে (এসএসএমসি) বদলি করা হয়। এর দুদিন পরে দেওয়া শোকজ নোটিশে নোটিশপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসচিব স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, আপনার বিরুদ্ধে নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করা, স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত করা এবং পরিচালকের রুমের অনার বোর্ডসহ অন্যান্য ঘুম ভাঙচুর করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক অসদাচরণ হিসেবে গণ্য।

এতে আরও বলা হয়েছে, কেন আপনাকে এই বিধিমালার অধীনে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ অথবা অন্য কোনো গুরুদণ্ড আরোপ করা হবে না, সে বিষয়ে এ নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে স্বাক্ষরকারীর নিকট কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল। একইসঙ্গে আপনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কিনা তাও জানাতে নির্দেশ প্রদান করা হল।

শোকজ নোটিশে ডা. এইচ এম মাহমুদ হারুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা গঠনের তথ্য জানানো হয়েছে। তবে কখন এসব ঘটনা ঘটেছে, এবং এর বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. অধ্যাপক ডা. মো. মুক্তার হোসেন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

জানা গেছে, ডা. এইচ এম মাহমুদ হারুন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাইকিয়াট্রি বিভাগ থেকে মানসিক রোগের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিভাগের একটি সূত্র বলছে, এইচ এম মাহমুদ হারুনের এই ঘটনা প্রথম নয়। এমনকি আচরণে উশৃঙ্খল হওয়ায় তার সঙ্গে কারোরই তেমন ভালো সম্পর্ক নেই।

জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. এইচ এম মাহমুদ হারুন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অভিযোগ সব মিথ্যা। এটি পতিত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার ও এদের মদদপুষ্ট হাইব্রিডদের ষড়যন্ত্রের অংশ। এ বিষয়ে আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে বিস্তারিত লিখিত জবাব দিয়েছি।