১৯ মে ২০২৬, ১৬:২৪

ঈদের ছুটিতে হাসপাতালের জরুরি সেবা সার্বক্ষণিক চালুর নির্দেশ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর  © টিডিসি সম্পাদিত

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আজহার ছুটিতে দেশের সকল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রাখতে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছুটির দিনগুলোতে জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার ও ল্যাব চালু রাখাসহ শিশু ওয়ার্ড ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে দুই বেলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলক রাউন্ড দিতে বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের ছুটির মধ্যেও হাসপাতালের বহির্বিভাগ (আউটডোর) একাধারে ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। এই সংকট এড়াতে ছুটির মাঝেই আগামী ২৬ মে এবং ৩০ মে বহির্বিভাগ চালু রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, ঈদের ছুটির দিনগুলোতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ইমারজেন্সি ওটি, ল্যাব, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই সেবা সার্বক্ষণিক (২৪ ঘণ্টা) চালু রাখতে হবে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত সব স্তরে জরুরি ল্যাব ও এক্স-রে সেবা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক ‘অনকল’ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় নিয়ে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর শিশু ওয়ার্ড এবং হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ও বিকাল— দুই বেলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলকভাবে ওয়ার্ড রাউন্ড দিতে হবে।

এ ছাড়া ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর, যেন কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত থাকে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করবেন। এছাড়া, সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় পরিচালকদের অবহিত করে ঈদের ছুটির দিনগুলোতে নিজ জেলার মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করা যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ছুটি শুরু হওয়ার আগেই পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট এবং সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুত রাখতে হবে। স্টোর কিপার বা দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের অবশ্যই নিজ জেলা বা উপজেলায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে।

একই সাথে সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে নিবন্ধিত চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ এবং হাম ওয়ার্ড খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া রোগী রেফার করার প্রবণতা পরিহার করতে হবে। কোনো রোগীকে রেফার করতে হলে তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ও যাত্রাপথের চিকিৎসা দিয়ে এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রাপ্তিতে সহায়তা করতে হবে। এছাড়া পশুর হাটের নিকটবর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছুটিকালীন সময়ে হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগাম চিঠি দিতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি করবেন এবং রোগীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। যেকোনো দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটলে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমকে জানাতে বলা হয়েছে।