ধানমন্ডিতে থাইরয়েড কনফারেন্স ও মেলা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশে থাইরয়েড স্বাস্থ্যের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, আক্রান্ত প্রতি ৫ জন রোগীর মধ্যে ৩ জনই নারী। এই নীরব ব্যাধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়নে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ১৭তম থাইরয়েড কনফারেন্স ‘থাইরয়েড-দ্য মাদার গ্ল্যান্ড’ এবং ৮ম ‘থাইরয়েড মেলা-২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে।
দি থাইরয়েড সেন্টার লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থাইরয়েড মেডিসিন অ্যান্ড ইমেজিং রিসার্চের (বিটমির) যৌথ উদ্যোগে গতকাল শনিবার (১৬ মে) প্রতিষ্ঠানটির ধানমন্ডিস্থ নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি এবং নিনমাসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এমএ করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোল্যারিঙ্গোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার এবং নিনমাসের সিন্টিগ্রাফি বিভাগের প্রধান ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা।
কনফারেন্সে দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদরা তাদের বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে প্রায় ১২০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী চিকিৎসককে আল্ট্রাসাউন্ড, কালার ডপ্লার, থ্রিডি/ফোরডি, ইলাস্টোস্ক্যান এবং এফএনএসিসহ থাইরয়েড নির্ণয়ের অত্যাধুনিক ইন্টারভেনশন প্রযুক্তি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে থাইরয়েড ইমেজিং শিক্ষার প্রসারে বিগত ২১ বছর ধরে কাজ করায় বক্তারা দি থাইরয়েড সেন্টার ও বিটমিরের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কনফারেন্সের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল বারী লিখিত নতুন বই ‘থাইরয়েড: আপনার রক্ষক’-এর মোড়ক উন্মোচন। বইটি চিকিৎসক ও সাধারণ রোগী— উভয় পক্ষের জন্যই সমান উপযোগী হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপারথাইরয়েডিজম, থাইরয়েড ক্যান্সার এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি (আরএআই ও আরএফএ) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি ৮৫টি ছবির মাধ্যমে রোগীদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, ওষুধ সেবনের নিয়ম ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া থাইরয়েড চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (এআই) প্রযুক্তির ভূমিকাও বইটিতে স্থান পেয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ৭ থেকে ৯ মে ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে ৮ম বারের মতো ‘থাইরয়েড মেলা-২০২৬’ আয়োজন করা হয়। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় প্রায় ৩ হাজার রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং স্বল্পমূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, রোগ নির্ণয় ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফজলুল বারী উপস্থিত সকলকে থাইরয়েড রোগের বিস্তার রোধে প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।