১০ মে ২০২৬, ১৮:৪৩

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে ‘সমন্বয়হীনতা’, হামে আক্রান্ত-মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর  © টিডিসি সম্পাদিত

উচ্চ সংক্রামক ব্যাধি হামে আক্রান্ত ও মৃত শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কয়েকটি বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের তথ্যে গড়মিল দেখা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকাল শনিবার পর্যন্ত তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৫২ জন শিশুর হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতির কারণে এর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এই গড়মিলের কারণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সমন্বয়হীনতা। বেশ কিছুদিন ধরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আসেনি।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৬টা ৩৫) হাম সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল শনিবারের পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩১ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৯ জন ৭৪৬ জন। আর এ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৯৭৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া মৃতদের ২৯১ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১২ জন সন্দেহজনক ও ৯ জন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তবে গত ৮ মে পর্যন্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য বলছে, ওই সময়েই বিভাগটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৩ শিশু। ওই সময় পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগটিতে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল ৫ জন।

আরও পড়ুন: হামে মৃত শিশুদের পরিবারকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট

একই ভাবে, ময়মনসিংহে এখন পর্যন্ত একজন হাম উপসর্গে এবং দুজন নিশ্চিত হামে মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, এই বিভাগে নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যুর তথ্য ঠিক থাকলেও হাম উপসর্গে মারা গেছে ২৬ শিশু। অপরদিকে চট্টগ্রামে হামের উপসর্গে ২৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৭ জন। তবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস বলছে, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩২ জনের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু এবং রোগের বিস্তারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) শাখা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো তথ্য সিভিল সার্জন কার্যালয় হয়ে এমআইএসে যুক্ত হয়। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এসব তথ্য যাচাই-বাছাই ও হালনাগাদ করে প্রতিদিনের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। সংক্রামক রোগের আক্রান্ত, মৃত্যু, বিভাগভিত্তিক পরিস্থিতি এবং হাসপাতালে ভর্তির তথ্য নিয়মিত এই শাখা থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

আরও পড়ুন: তিন হাসপাতাল ঘুরে ৫ মাস বয়সী সন্তানের মরদেহ নিয়ে ফিরলেন মা–বাবা

তবে বেশ কিছুদিন ধরে স্বাস্থ্য অধিপদপ্তরের এমআইএস শাখায় মেডিকেল কলেজের তথ্য যুক্ত না হওয়ায় এই গড়মিল তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মাঝে মাঝে কিছু তথ্য ভুল হয়। যেমন কালকেও একটা ভুল হয়েছে, আমরা এটা কারেকশন করার জন্য বলেছি। এজন্য আজকে রিপোর্ট দিতে দেরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আরেকটা হচ্ছে যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো সিভিল সার্জনদের এখতিয়ারভুক্ত না। ফলে কতগুলো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপোর্ট আসতে দেরি হয়েছে। এমন না যে ওই ডকুমেন্ট গায়েব করে দেওয়া হয়েছে, ওই ডকুমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে না বা রোগী ভর্তি হয়েছে কিনা এমন কোন প্রমাণ নেই; ডকুমেন্টগুলো আছে। তবে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এমআইএসে আসেনি। সিভিল সার্জন মেডিকেল কলেজ থেকে তথ্য চাইতে বাধ্য না, এজন্য অনেকে চায়নি। আর ওরাও (মেডিকেল) দেয়নি। আমরা এই তথ্যগুলো সংযোজনের ব্যবস্থা করছি।