১০ মে ২০২৬, ১০:৩৫

দেশের ১৫ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা প্রয়োজন মেটাতে পারেন না

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি ফটো/এআই

দেশের মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ মানুষ মাসে অন্তত একবার চিকিৎসার প্রয়োজন অনুভব করেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ১৫ শতাংশ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা নিতে পারেন না। যা মোট প্রয়োজনের ৬৫ শতাংশের সমান। গ্রামীণ এলাকায় এ সংকট আরও বেশি। গ্রামে অপূর্ণ চিকিৎসা প্রয়োজনের হার ৬৮ শতাংশ, যেখানে শহরে তা ৫৯ শতাংশ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জনসংখ্যা অধ্যয়ন বিভাগের ‘বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অপূর্ণতা এবং ব্যক্তিগত ব্যয়ে চিকিৎসার গতিপ্রকৃতি পুনর্বিবেচনা’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে আসে। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইডিএস’র রিসার্চ ফেলো ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য সূচকে অগ্রগতি হলেও দেশে স্বাস্থ্যসেবার প্রধান অর্থায়ন এখনও ব্যক্তিগত খরচনির্ভর। ২০২৪ সালে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যক্তিগত ব্যয়ের হার দাঁড়িয়েছে ৭৯ শতাংশে। অর্থ সংকটের কারণে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ চিকিৎসা নিতে পারছেন না। ফলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অপূর্ণতা দেশের স্বাস্থ্যখাতে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বিআইডিএস জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি একজন রোগীর মোট চিকিৎসা ব্যয়ের ২৬ শতাংশ খরচ হয় ওষুধে এবং ১৭ শতাংশ ব্যয় হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। এতে ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ বাড়ছে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

গবেষণাটিতে ২০২২ সালের গৃহস্থালি আয় ও ব্যয় জরিপের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ১৪ হাজার ৪০০টি পরিবার এবং ৬২ হাজার ৩৮৭ জন ব্যক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, চিকিৎসা ব্যয় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রভাব বিশ্লেষণ করা।

জেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি চিকিৎসাসেবার অপূর্ণতা দেখা গেছে নড়াইলে। জেলার ৮১ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হবিগঞ্জ, যেখানে এ হার ৮০ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে কম অপূর্ণতা দেখা গেছে ফেনীতে, যেখানে এ হার ১৮ শতাংশ।

গবেষণায় চিকিৎসা ব্যয়ের খাতভিত্তিক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট ব্যয়ের ২৬ শতাংশ যায় ওষুধে। অস্ত্রোপচারে ব্যয় হয় ২৩ শতাংশ। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ১৭ শতাংশ, শয্যা ভাড়ায় ১৬ শতাংশ, অন্যান্য খাতে ৭ শতাংশ এবং যাতায়াতে ৬ শতাংশ ব্যয় হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ফি বাবদ ব্যয় হয় মোট খরচের মাত্র ৫ শতাংশ।

এদিকে একটি পরিবার গড়ে প্রতি মাসে চিকিৎসায় ৩ হাজার ৪৫৪ টাকা ব্যয় করে, যা মোট পারিবারিক ব্যয়ের ১১ শতাংশ। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ব্যয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায়।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ তুলনামূলকভাবে সমভাবে বণ্টিত হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহণ ধনী মানুষের মধ্যেই বেশি সীমাবদ্ধ। যদিও ধনীদের মোট চিকিৎসা ব্যয় বেশি, তবে দরিদ্র মানুষের ওপর আর্থিক চাপ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। দরিদ্র পরিবার তাদের মোট আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ চিকিৎসায় ব্যয় করে, যেখানে ধনীদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ৫ শতাংশ।