১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৮

বিএমইউতে বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস উপলক্ষে এই র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়  © সংগৃহীত

দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষরণজনিত রোগ হিমোফিলিয়া সচেতনতায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবসকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এই র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর ১৭ এপ্রিল পালিত হয় বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য— ‘রোগ নির্ণয়: সুচিকিৎসার প্রথম ধাপ’।

হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং বিএমইউর হেমাটোলজি বিভাগ। র‍্যালির মাধ্যমে রোগটির লক্ষণ, প্রতিরোধ ও আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয় এবং রোগীদের প্রতি সামাজিক সহমর্মিতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। র‌্যালি থেকে বিশেষজ্ঞরা রোগের প্রাথমিক নির্ণয়, বিনামূল্যে রক্তের ফ্যাক্টর নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত চিকিৎসাসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, হিমোফিলিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষরণজনিত রোগ হলেও সময়মত সঠিক রোগ নির্ণয় ও সমন্বিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশে এখনও অনেক অনিবন্ধিত হিমোফিলিয়া রোগী রয়েছে, যাদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। আধুনিক চিকিৎসা সেবা ধীরে ধীরে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

র‍্যালিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আমিন লুৎফুল কবির, বিএমইউ হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুজ্জামান খান, সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আদনান হাসান মাসুদ প্রমুখ। র‍্যালিতে হিমোফিলিয়া রোগী ও তাদের অভিভাবকরাও অংশ নেন এবং চিকিৎসা আরও সহজলভ্য ও সুলভ করার দাবি জানান। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক, রেসিডেন্ট এবং শিক্ষার্থীরাও এতে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর ম্যানেজমেন্ট অব হিমোফিলিয়া’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।