হাম প্রতিরোধে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাম প্রতিরোধে বর্তমান সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামজনিত নিউমোনিয়া শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হঠাৎ করে হাম রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের তেমন কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে অল্প সময়ে হাম প্রতিরোধে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, আগামী রবিবার থেকে সারাদেশে হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে। এতগুলো শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আমি মর্মাহত। ঢাকা ও রাজশাহীসহ সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে হামের চিকিৎসায় কয়েকটি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রাজশাহী ও মানিকগঞ্জে ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রয়েছে।
দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সব স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীদের অনেক সংকট আছে, সমস্যা আছে এবং এ ব্যাপারে আমরা ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি যে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনাদের সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো। কিন্তু তার আগে দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের সহযোগিতা চাইছি।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, টিকা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত বেশকিছু স্বাস্থ্য সহায়তাকারী দীর্ঘ সময় ধরে বেতন পাচ্ছে না, এটা তাদের মধ্যে অনেক বড় একটি কষ্ট। এছাড়া কয়েকহাজার স্বাস্থ্য সহকারী, সহ-স্বাস্থ্য সহকারী ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক এরকম বেশ কিছু পদে পদোন্নতি বা গ্রেড উন্নয়নের দাবী আছে। তা বিবেচনা করা হবে।
ডাক্তারদের অবদান ও মানবিকতার বিষয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আমি চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ করব, আপনারা চিকিৎসা নৈতিকতার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় ‘বিশ্বাস’কে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ, শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক।
একইসময় সেখানে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব সংক্রান্ত সেমিনারে শিশু সংক্রামক রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মীর্জা মো. জিয়াউল ইসলাম হাম রোগ বিস্তারের প্যাটার্ন ও এ রোগ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নবস্থাপিত সার্জারি বহিঃবিভাগের উদ্বোধন করেন এবং বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন।