নেত্রকোনায় ৯ শিশুর শরীরে হাম সনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি ৫
নেত্রকোনায় ধীরে ধীরে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। জেলায় এখন পর্যন্ত ৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে পাঁচ শিশু নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আক্রান্ত শিশুদের বয়স ছয় মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে। শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় চারজন, পূর্বধলায় দুজন, আটপাড়ায় দুজন এবং কলমাকান্দায় একজন রয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, সম্প্রতি জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের শরীরে হাম শনাক্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী।
হাম আক্রান্ত শিশুদের আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সেখানে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক ফুলন রাণী সরকার বলেন, তিন দিন ধরে তার শিশুর জ্বর ছিল।
পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না।
শিশু বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান খান জানান, ‘হাম আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালে আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও রোগীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল, প্যারাসিটামল সিরাপ, অ্যান্টিবায়োটিক ও চোখের ড্রপের সরবরাহ নেই। ফলে অভিভাবকদের বাইরে থেকে এসব ওষুধ কিনতে হচ্ছে। যদিও অক্সিজেন সরবরাহে যে সাময়িক সমস্যা ছিল, তা এখন স্বাভাবিক হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। সময়মতো টিকা না নিলে এটি শিশুদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন গোলাম মাওলা বলেন, ‘আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং হাসপাতালে টিকার কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’