ফোন ছাড়তে পারছেন না? চোখ বাঁচাতে অন্তত ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন
ডিজিটাল এই সময়ে স্মার্টফোন যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কাজ, যোগাযোগ থেকে বিনোদন—সবকিছুতেই এর ব্যবহার বাড়ছে। তবে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে চোখ রাখার কারণে চোখে চাপ, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা ও মাথাব্যথার মতো সমস্যাও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোপুরি ফোন ছেড়ে দেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চললে চোখকে অনেকটাই সুরক্ষা দেওয়া যায়।
২০-২০-২০: দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলা উপকারী—প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকালে চোখ কিছুটা বিশ্রাম পায়।
স্ক্রিনের আলো ঠিক রাখুন: স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ঠিক রাখা জরুরি। অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা খুব কম আলো—দুটিই চোখের জন্য ক্ষতিকর। তাই আশপাশের পরিবেশ অনুযায়ী ব্রাইটনেস ঠিক করুন। রাতে নাইট মোড বা নীল আলো প্রতিরোধকারী ব্যবস্থা ব্যবহার করলে চোখে চাপ কম পড়ে।
সঠিক দূরত্ব বজায় রাখুন: চোখ ও ফোনের মধ্যে সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন। সাধারণত ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চি দূরত্ব রাখা ভালো। খুব কাছ থেকে স্ক্রিন দেখলে চোখের ওপর চাপ বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হতে পারে।
ফন্ট সাইজ ও কনট্রাস্ট: ছোট অক্ষর পড়তে গেলে চোখের ওপর বেশি চাপ পড়ে। তাই ফন্ট কিছুটা বড় রাখা এবং কনট্রাস্ট এমনভাবে ঠিক করা উচিত, যাতে লেখা সহজে পড়া যায়।
চোখের শুষ্কতা রোধে করণীয়: স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় কম পলক ফেলি, ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। এ জন্য সচেতনভাবে বেশি পলক ফেলা এবং প্রয়োজনে কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্ধকারে ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: অন্ধকারে ফোন ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকা উচিত। কারণ অন্ধকার ঘরে স্ক্রিনের আলো চোখে বেশি চাপ ফেলে, যা চোখের ব্যথা ও ঘুমের সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই হালকা আলোতে ফোন ব্যবহার করাই ভালো।
স্ক্রিন টাইম কমানো: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানো। কাজ ছাড়া দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভিডিও দেখার অভ্যাস চোখের জন্য ক্ষতিকর। নির্দিষ্ট সময় পর পর বিরতি নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার।
স্মার্টফোন পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমে চোখের ক্ষতি অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়। চোখ সুস্থ থাকলেই প্রযুক্তির সুবিধা উপভোগ করা সম্ভব।