দেশে হিলিয়াম গ্যাসের ঘাটতি নেই, স্বাস্থ্যখাতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধে আন্তর্জাতিক বাজারে হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ কমলেও বাংলাদেশে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে এমআরআই স্ক্যানসহ অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
আজ শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ’ (এসওএসবি) আয়োজিত ‘সিএমই অন মেডিকেল এথিকস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে যাতে বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যখাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে দেশের হাসপাতালগুলোতে এমআরআই স্ক্যানসহ অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, গুটিকয়েক অসৎ চিকিৎসকের নেতিবাচক প্রভাব যদি পুরো চিকিৎসা খাতে পড়ে, তবে জাতি ধ্বংসের মুখে পড়বে। মন্ত্রণালয় পরিচালনার চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কার্যত হাবুডুবু খাচ্ছি। চিকিৎসকদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এই বিশাল খাতের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী জানান, সারা দেশে অনুমোদনহীন ও অনিয়মে লিপ্ত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি একটাই অনুরোধ করব, আপনারা অত্যন্ত সম্মানিত শ্রেণী। আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন, এই মন্ত্রণালয়ে থেকে মানুষের সেবা করা কঠিন। আপনাদের সহকর্মী তৃণমূল পর্যায়ে যারা চাকরি করছেন, তাদের নিকট আজকের বার্তা পৌঁছে দিবেন। এ ব্যাপারে সবাই সমন্বিতভাবে এগিয়ে না এলে এত বিশাল খাতের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধান করা কঠিন।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি আজকের এই প্রোগ্রামে এসেছি, শুধু একটি কথা বলতে যে, আমি জাতির সেবার জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই, আমার জন্য না। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়টাকে সম্পূর্ণরূপে দুষ্কৃতিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত করতে চাই। সন্ত্রাস মানে মারামারি না, কলমের সন্ত্রাস, সিদ্ধান্তের সন্ত্রাস। আমাদের ডাক্তারদের যেন আপনাদের সহযোগিতায় একটি সম্মানিত জায়গায় নিয়ে যেতে পারি। আর এটা করা মানে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের উপকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে সম্প্রতি জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন নিয়ে ব্যবস্থাপনা, সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া হাম রোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে এনআইসিইউ ও ভেন্টিলেশন স্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার গৃহীত ব্যবস্থা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আলোচকবৃন্দ চিকিৎসা ক্ষেত্রে নৈতিকতার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন খানসহ প্রখ্যাত সিনিয়র ও জুনিয়র চিকিৎসকগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশের সদ্য প্রয়াত সভাপতি অধ্যাপক এএমএসএম শরফুজ্জামান রুবেলকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।