২৬ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৩

স্বাধীনতা দিবসে মেট্রোরেলে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, বন্ধের নির্দেশ

স্বাধীনতা দিবসেও মেট্রোরেলে চলল ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সরকারি প্রতিষ্ঠান মেট্রোরেলে দেখা মিলল ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের বিজ্ঞাপন। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ট্রেনের ভেতরের স্ক্রিনে বিজ্ঞাপনটি ভেসে উঠতে দেখা যায়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজই নয়, গত ২০ দিন ধরে এই বিজ্ঞাপন চলছে মেট্রোর ট্রেনে।

জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিজ্ঞাপনটি হাসপাতালের নয়, বরং তার তথ্যকেন্দ্রের; যা একটি কনসাল্টেন্সি প্রতিষ্ঠান। তবে নজরে আসার পর এ বিজ্ঞাপন বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বাংলাদেশে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে যাত্রা শুরু করে অ্যাপোলো হাসপাতালের এই ইনফরমেশন সেন্টার। অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো হাসপাতালের সিইও নবীন ভি উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় এটিকে ‘তাদের নিজস্ব ইনফরমেশন সেন্টার’ বলে দাবি করা হয়। উদ্বোধনকালে জানানো হয়, এই ইনফরমেশন সেন্টারের মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগীরা এখন থেকে পাবেন— সহজে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং, ভিসা ইনভাইটেশন লেটার প্রদানের সুবিধা, ব্যক্তিগত ট্রিটমেন্ট প্ল্যান ও মেডিকেল গাইডলাইন এবং চিকিৎসা ব্যয়ের ধারণা।

বিজ্ঞাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাপোলো হাসপাতাল চেন্নাইয়ের ইনফরমেশন সেন্টার ঢাকার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এটি হাসপাতালের বিজ্ঞাপন নয়, ইনফরমেশন সেন্টারের বিজ্ঞাপন। যে রোগীরা ভারতে গিয়ে ট্রিটমেন্ট করবে, এই সেন্টার তাদেরকে হেল্প আউট করা। ইন্ডিয়ার কোন ডাক্তার বাংলাদেশে এসে চিকিৎসা করাচ্ছে না যে আমরা অনুমোদন নিব। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে কোন বিধিনিষেধ নাই। এটা তো একটা কনসাল্টেন্সি ফার্ম।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোগীরা আমাদের মাধ্যমে ওই হাসপাতালে যায়, ভিসা করে। সেটা তো যেকোনো দেশে যেতে পারে। বিভিন্ন ডক্টরের প্রোফাইল তাদেরকে জানানো, ডক্টর এপয়েন্টমেন্ট করে দেওয়া, ওইখানে গেলে কত টাকা খরচ হতে পারে তার একটা সম্ভাব্য ধারণা দেওয়া এসব আমাদের কাজ।

জানতে চাইলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. উসমান গনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মেট্রোরেলে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে বর্তমানে বিজ্ঞাপনী সংস্থা এনেক্স কমিউনিকেশনের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। এখন বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন গিয়েছে কিনা আমার জানা নাই। আমি এনেক্সের সঙ্গে কথা বলব।

বাংলাদেশে চিকিৎসকদের সেবা ও বিজ্ঞাপনের অনুমোদনের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিএমডিসি কেবল ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনুমোদন দেয়। হাসপাতালের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ’ শাখার এখতিয়ার। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবুল হোসেন মো. মাইনুল আহসান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিককে অনুমোদন দিয়ে থাকি। কিন্তু এটি একটি হাসপাতালের ইনফরমেশন সেন্টার, যা এই তিন ক্যাটাগরির কোনোটিতেই পড়ে না।

তিনি বলেন, এরপরও বিদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে বলেছি। কারণ এটা আমাদের সরকারের হেলথ পলিসিবিরুদ্ধ। আশা করি কালকে এই বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিবে।