২৫ মার্চ ২০২৬, ১৮:০৭

মায়ের কিডনিতে বাঁচবে শিশুটি, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সফল প্রতিস্থাপন

মায়ের কিডনিতে বাঁচবে শিশুটি  © সংগৃহীত

দীর্ঘদিন কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিসের ভার আর সইছিল না শিশুটি কিংবা তার পরিবারেরও। এ অবস্থায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই রোগীর মায়ের আকুতিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) হল কিডনি প্রতিস্থাপন। দাতা মা নিজেই। গত ২ মার্চ অস্ত্রোপচারের পর মা ও মেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠায় আজ বুধবার (২৫ মার্চ) তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামের অধীনে ভর্তি এই রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগ। দাতা থেকে কিডনি অপসারণ দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো. সাইফুল ইসলাম দিপু। অন্যদিকে গ্রহীতার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন দলের নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক একেএম খুরশিদুল আলম ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, দেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত এই রোগী সম্পূর্ণভাবে ডায়ালাইসিসের উপর নির্ভরশীল ছিল, যা রোগী ও তার পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রোগীর মায়ের আকুতিতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহায়তায় কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য এ বছরের ২২ জানুয়ারি শিশুটি বিএমইউ হাসপাতালে ভর্তি হয়।

পরে ২৮ জানুয়ারি মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ২ মার্চ রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে কিডনি দান করেন তার গর্ভধারিণী মা। সার্জারির পর রোগী ও তার মা উভয়ই সুস্থ থাকায় আজ বুধবার তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। নিজের সন্তানকে কিডনি দানকারী মা তার ও তার সন্তানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

রোগীর ছাড়পত্র প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন রোগীকে আর্থিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানকারী জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং দেশে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বলেন, দেশে আইনি জটিলতার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা এখনো অনেক কম। তবে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, রোগীদের আস্থা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।