তারাবির ইমামতিকালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষণ, দুদিন পর চলে গেলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহ আলম
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (এনআইএমএইচ) সাইকোথেরাপি বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শাহ আলম মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অধ্যাপক শাহ আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ও হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি বিভাগেও দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন। মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হয়ে অবসরে যাওয়ার পর বেসরকারি পপুলার মেডিকেল কলেজ হসপিটালে যোগ দেন।
মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাপক মোহিত কামাল জানান, গত বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারাবির নামাজ পড়ছিলেন অধ্যাপক শাহ আলম। নিজেই ইমামতি করছিলেন। হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে সিটি স্ক্যান করে দেখা যায়, তার Hemorrhagic stroke ঘটে গেছে। অর্থাৎ ব্রেনে রক্তপাত ঘটেছে।
তিনি জানান, সেরা সেরা বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হলেও ওইদিনই তাঁর ‘ব্রেনডেথ’। গতকাল বৃহস্পতিবার চিকিৎসকরা তার লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলতে চেয়েছিলেন। তবে পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে লাইফ সাপোর্ট সচল রাখা হয়। আজ সকালে চিকিৎসকরা জানান, তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে।
স্মৃতিচারণ করে মোহিত কামাল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমি তখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এমওপিডির মেডিকেল অফিসার। পরিচয় হয় সাইকিয়াট্রির বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মাহফুযুল হক এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহ আলম স্যারদের সঙ্গে। তাদের মহান কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাইকিয়াট্রির সহকারী রেজিস্ট্রারের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। উত্তীর্ণ হয়ে জয়েন করলাম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরই সাইকিয়াট্রি বিভাগে।
সেই থেকে হৃদ্যতা উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, সিনিয়র হলেও বন্ধুর মতই গ্রহণ করেছিলেন আমাকে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল তখন থেকেই তিনি আমার লেখালেখির ভক্ত ছিলেন।
ভারত থেকে প্রকাশিত সানন্দা পত্রিকায় একবার আমার এক গল্প ছাপা হয় । তিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরের বুকস্টল থেকে পত্রিকা কিনে আনেন। উল্লসিত হয়ে আমাকে দেখিয়ে বললেন, ‘এটা কি আমাদের মোহিত কামালের গল্প?’
তিনি লিখেছেন, আনন্দে আমার চোখে জল এসে গেল। তিনি বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া করলেন। তারপর ডিপার্টমেন্টে যেই আসুক না কেন তাকে দেখিয়ে বলতেন, ‘দেখো আমাদের মোহিতের গল্প ছাপ হয়েছে সানন্দায়।’ মনে হচ্ছিল তারই গল্প ছাপ হয়েছে। কত স্মৃতি আছে। অথচ আজ সেই ঘটনাটাই বারবার মনে পড়ছে।
জানা গেছে, আজ বাদ জুম্মা রাজধানীর ধানমন্ডি ৭ নম্বর রোডের বায়তুল আমান জামে মসজিদে অধ্যাপক শাহ আলমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।