কিডনি দিবস উপলক্ষে রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সচেতনতামূলক র্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত
‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরনীরে’— প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কিডনি রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সকালে বিএমইউর বটতলা থেকে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম।
র্যালিতে সংগঠনের সদস্য সচিব ডা. মো. ফরহাদ হাসান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমানসহ সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিডনি সেবাকে অন্তর্ভুক্ত ও শক্তিশালী করা, কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মরণোত্তর কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে সফল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয়ের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একটি সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমেই কিডনি রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও ডায়াবেটিক কেয়ার সেন্টারগুলোতে এ ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা গেলে কিডনি রোগ শনাক্তকরণ অনেক সহজ হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নীরবঘাতক কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। তিনি ভেজাল খাবার পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যান্য বক্তারা জানান, ২০১৯ সালে প্রকাশিত আটটি গবেষণার ওপর ভিত্তি করে করা একটি সিস্টেমেটিক রিভিউ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। ১৭ কোটি মানুষের দেশে এ হার বিবেচনায় কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ। প্রতি বছর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে এবং নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে। তারা আরও বলেন, বর্তমানে কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে অষ্টম স্থানে রয়েছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এটি পঞ্চম স্থানে পৌঁছাতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
উল্লেখ্য, বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৮ মার্চ বিএমইউর বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গণে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমাণ ছাদখোলা গাড়ির উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া ১১ মার্চ শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) অডিটোরিয়ামে কিডনি রোগ বিষয়ে একটি জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।