১১ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩৯

কিডনি দিবস উপলক্ষে রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভা

কিডনি দিবস উপলক্ষে রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভা  © সংগৃহীত

বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন। আজ বুধবার (১১ মার্চ) শেরে বাংলা নগরে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব কিডনী ডিজিস অ্যান্ড ইউরোলজির (নিকডু) অডিটোরিয়ামে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয় ব্যয় নামমাত্র। তাই রোগ নির্ণয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) পরিচালক ও ড্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কেনান, কোষাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ডা. একেএম খালেকুজ্জামান দিপু, কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ডা. আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. রেজাউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি পরিবারে কিডনি চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এই ব্যায়ভার শুধু ব্যক্তি রোগীর উপর নয় অথবা রোগীর পরিবারের উপরও নয়, বরং এই চিকিৎসা সাপোর্ট দেওয়া সমগ্র জাতির জন্য, সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত দুরুহ কাজ। সুতরাং চিকিৎসক হিসেবে, আমাদের স্বাস্থ্য সেবার অভিভাবক হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই কিডনি রোগে প্রতিকারের ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তারা বলেন, একটা আশার বিষয় হচ্ছে— কিডনি রোগের চিকিৎসা যতটা ব্যয়বহুল কিডনি রোগ নির্ধারণ কিন্তু ততই সহজ একটি প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র একটি প্রস্রাবের পরীক্ষার মাধ্যমে একজন কিডনি রোগী শনাক্ত করতে অনেকখানি সক্ষম। আমরা যদি প্রতিটি ইউনিয়ন সাব সেন্টার, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, ডায়াবেটিক কেয়ার সেন্টারগুলোতে এই তথ্য এবং আবেদিক পেলোতে এই তথ্য এবং এই প্রযুক্তিটাকে পৌঁছে দিতে পারি, তাহলে কিডনি রোগ শনাক্ত অনেকটাই সহজসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। কিডনি রোগের প্রতিকারও সক্ষমতার ভেতরে চলে আসবে

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আরও বলেন, ২০১৯ সালে প্রকাশিত ৮টি স্টাডির উপর একটি সিস্টেমিক রিভিউয়ের মতে বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২২.৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে এই তথ্যকে সঠিক ধরে নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লক্ষ এবং দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। এই রোগে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অথবা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে। বর্তমানে এই রোগে মৃত্যুর স্থান অষ্টম এবং ২০৪০ সাল নাগাদ কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থান দখল করবে, যা মানুষের সুস্থ জীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, নীরব ঘাতক কিডনি রোগের প্রতিরোধে জনসচেতনা সৃষ্টির বিকল্প নাই। কিডনি রোগ প্রতিরোধে ভেজাল খাবার খাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ওজন এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

এর আগে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বটতলায় বিশ্ব কিডনি দিবসের প্রাক্কালে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমান ছাদখোলা গাড়ি উদ্বোধন করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শুরুতেই কিডনি রোগ চিহ্নিত না হলে রোগীর জন্য অনেক বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন।