কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিতি, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে চিকিৎসককে শোকজ
দেরিতে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও শৃঙ্খলাবিধি পরিপন্থী বক্তব্য দেওয়ায় ভোলা জেনারেল হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. শাহীন চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পত্রপ্রাপ্তির এক কর্মদিবসের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার (৯ মার্চ) হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান স্বাক্ষরিত নোটিশে তাকে শোকজ করা হয়েছে।
শোকজ নোটিশে অভিযুক্ত চিকিৎসককে বলা হয়েছে, আপনি গত ৮ মার্চ দেরিতে কর্মস্থলে উপস্থিত হন এবং দায়িত্ব পালনকালে ডিবিসি নিউজকে ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধি’ পরিপন্থী বক্তব্য প্রদান করেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যাখ্যা চেয়ে স্বাক্ষরকারীকে প্রতিবেদন প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করেন। আপনার এমন বক্তব্যের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যহত, প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি ও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়, যা ‘সরকারি চাকরি আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধি’ পরিপন্থী। আপনার এমন বিধি পরিপন্থী বক্তব্যের সুস্পষ্ট জবাব পত্রপ্রাপ্তির ১ কর্মদিবসের মধ্যে স্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে দাখিল করার জন্য বলা হল।
এদিকে ওই চিকিৎসককে শোকজ করার পাশাপাশি হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হতেও নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। অপর এক নোটিশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্বাক্ষরকারীকে টেলিফোনিক বার্তার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন। এমতাবস্থায় বায়োমেট্রিক হাজিরা রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিতসহ প্রতিদিন যথাসময়ে কর্মস্থলে আগমন ও প্রস্থান করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের অপর এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দেওয়া এক চিঠিতে জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন শেষে পরদিন ডে অফ থাকার কথা থাকলেও হাসপাতালে চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে পূর্বের দিন রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন শেষে ডে অফ প্রদান না করে ৮ মার্চ সকালের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ফলে সংবাদ প্রতিবেদনের পূর্বের রাতে দায়িত্ব পালন করে যথাসময়ে কর্মস্থলে আসতে বিলম্ব হয়।
হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালটির মোট মঞ্জুরীকৃত পদ ৮৭টির মধ্যে মাত্র ২৫টি পূরণ হয়েছে। পদ শূন্য রয়েছে ৬২টি।