০৮ মার্চ ২০২৬, ১৫:৩৪

শের-ই-বাংলা মেডিকেলের ওটি রুমে শিশু নির্যাতন তদন্তে কমিটি গঠন

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  © সংগৃহীত

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ইনজেকশনের সুঁচ দেখে ভয়ে চিৎকার করায় শিশুকে এক কর্মচারীর চড়-থাপ্পড়ের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত কর্মচারী ওটি সহায়ক শাহীন ওরফে নাজমুলকে সাময়িক বরখাস্তের একদিন পরই এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হল।

আজ রবিবার (৮ মার্চ) শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অর্থপেডিক ওটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে দেখা যায় সেখানে কর্মরত অফিস সহায়ক জিএম নাজমুল হাসান শিশুটিকে নির্যাতন করেছেন মর্মে শিশুটি এবং তার অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে শিশু নির্যাতন প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মো. মাজহারুল রেজওয়ান। সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ডেন্টাল অনুষদের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. হাসান মেহমুদ। অপর সদস্য হলেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. মো. শাখাওয়াত হোসেন।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী থেকে আসা ছোট্ট রিমনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আঙুলটি আর কোনোদিন জোড়া লাগবে না— এমন দুঃসংবাদ শোনার পর যখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল শিশুটি, ঠিক তখনই তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। ইনজেকশনের সুঁই দেখে ভয়ে নড়াচড়া আর চিৎকার করায় শিশুটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে অপারেশন থিয়েটারেই (ওটি) সজোরে চড়-থাপ্পড় মারেন হাসপাতালের এক কর্মচারী। গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রিমন পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় তার হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে গতকাল সকালে শেবাচিম হাসপাতালে আনা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা অপেক্ষার পর যখন তাকে ওটিতে নেওয়া হয়, চিকিৎসকরা জানান আঙুলটি আর রক্ষা করা সম্ভব নয়। এরপর চিকিৎসার প্রয়োজনে ইনজেকশন দেওয়ার সময় শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অর্থোপেডিক্স বিভাগের ওটি সহায়ক শাহীন (নাজমুল)। তিনি রিমনের গালে এমনভাবে চড় মারেন যে, সেখানে স্পষ্ট আঙুলের ছাপ পড়ে যায় এবং এমনকি চোখের ভেতর রক্ত জমাট বেঁধে যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অপারেশন থিয়েটারের ভেতর থেকে রিমনের কান্নার শব্দ শুনে তারা ছুটে গিয়ে দেখেন এই করুণ দৃশ্য। এর প্রতিবাদ করতে গেলে ওই কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালের সাধারণ মানুষ ও রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে ঘটনার পর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত শাহীনকে (নাজমুল) সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।