সকালে কফির বদলে পান করতে পারেন ৭ পানীয়, মিলবে যেসব উপকার
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ কফি পান করার অভ্যাস অনেকেরই। দিনের শুরুতে চাঙা হতে কফি কার্যকর হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে এটি অস্বস্তি, বুকজ্বালা, কিংবা কিছুক্ষণ পর ক্লান্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে খালি পেটে কফি পান করলে এসব সমস্যা বেশি অনুভূত হতে পারে।
তাই সকালের পানীয় হিসেবে কফির বিকল্প বেছে নিতে পারেন কয়েকটি স্বাস্থ্যকর পানীয়। পুষ্টিবিদদের মতে, এসব পানীয় শরীরের পানিশূন্যতা দূর করার পাশাপাশি হজমে সহায়তা এবং সারা সকাল শক্তি ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতীয় পুষ্টিবিদ অবনী কৌল সকালে কফির পরিবর্তে সাত ধরনের পানীয় পান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
১. জিরাপানি
সকালে খালি পেটে জিরাপানি পান করলে হজমে সহায়তা পেতে পারেন। জিরা হজমে প্রয়োজনীয় এনজাইমের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, এটি পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি খাবার হজমের প্রক্রিয়ায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
২. আপেল সিডার ভিনেগার মেশানো পানি
আপেল সিডার ভিনেগার বা এসিভি পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানিতে এক টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করলে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হতে পারে। এটি পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কখনোই সরাসরি বা ঘন অবস্থায় এটি পান করা উচিত নয়।
৩. চিয়া বীজের পানি
চিয়া বীজে প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বীজগুলো ফুলে ওঠে এবং একধরনের জেলির মতো আবরণ তৈরি করে। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে সকালে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমানো এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিয়া বীজের পানি সহায়ক হতে পারে।
৪. লেবু-মধুর পানি
সকালে এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস ও সামান্য মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণে ভূমিকা রাখতে পারে, যা হজমপ্রক্রিয়ায় সহায়ক। তবে মধুতে চিনি থাকায় পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
৫. অ্যালোভেরার জুস
অ্যালোভেরার রস পেটের অস্বস্তি কমাতে এবং স্বাভাবিক মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় এর কিছু উপকারিতা থাকতে পারে। তবে অ্যালোভেরার রস সবার জন্য উপযোগী নয়। অতিরিক্ত পান করলে পেটব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত পান করা ঠিক নয়।
৬. আদা চা
কফির বিকল্প হিসেবে সকালে আদা চা পান করতে পারেন। আদায় থাকা জিঞ্জেরল নামের উপাদানের প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি বমিভাব কমাতে এবং হজমের অস্বস্তি দূর করতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে সকালে হালকা আদা চা শরীরকে সতেজ অনুভব করাতে পারে।
৭. গ্রিন টি ও ম্যাচা
গ্রিন টি ও ম্যাচা—দুটিই ক্যামেলিয়া সিনেনসিস উদ্ভিদ থেকে তৈরি। এগুলোতে ক্যাটেচিন ও ইজিসিজির মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদান বিপাকীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও খবর: রাতে ঘুম আসে না? সহজ ৩ ধাপে ঘুমের প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে
অন্যদিকে ম্যাচা তৈরিতে পুরো চা-পাতা গুঁড়া করে ব্যবহার করা হয়। এতে এল-থিয়ানিন নামের উপাদান রয়েছে, যা মনোযোগ ধরে রাখতে এবং শান্তভাবে সতর্ক থাকতে সহায়তা করতে পারে। তবে গ্রিন টি ও ম্যাচাতেও ক্যাফেইন থাকে।
কাদের কফি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন?
কফি সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। যারা ক্যাফেইন সহজে সহ্য করতে পারেন, তারা পরিমিত পরিমাণে কফি পান করতে পারেন। তবে যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হজমজনিত সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন গ্রহণে সতর্কতা প্রয়োজন। এসব সমস্যা থাকলে কফির পরিমাণ কমানো বা বিকল্প পানীয় বেছে নেওয়া উপকারী হতে পারে।
সকালের পানীয় পানে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
স্বাস্থ্যকর পানীয় পান করলেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। অতিরিক্ত মধু বা মিষ্টি মেশানো, পানি ছাড়া সরাসরি আপেল সিডার ভিনেগার পান করা কিংবা পানীয়কে সকালের নাশতার বিকল্প মনে করা ঠিক নয়। আবার স্বাস্থ্যকর ভেবে কোনো পানীয় অতিরিক্ত পরিমাণে পান করাও উচিত নয়।